ছাতকে হাওরের মাটি লুটের দায়ে সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে কারাদণ্ড
সুনামগঞ্জের ছাতকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমি ও হাওর থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির দায়ে সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার নাইন্দার হাওরে এই অভিযান চালানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও লক্ষিবাউর গ্রামের মৃত আলতাব আলী তালুকদারের ছেলে মনির উদ্দিন তালুকদার এবং এক্সকাভেটর (ভেকু) চালক সাজিদ মিয়া। সাজিদ উপজেলার কাড়ইলগাঁও গ্রামের মত্তকিন আলীর ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নাইন্দার হাওর এলাকায় সরকারি ও ফসলি জমির উপরিস্তরের মাটি (টপ সয়েল) কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহিদুল ইসলাম সেখানে ঝটিকা অভিযান চালান। অভিযানে মাটি উত্তোলনের সত্যতা মেলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী প্রধান অভিযুক্ত মনির উদ্দিন তালুকদারকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে মাটি কাটায় ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি ও হাওরের মাটি কাটার ফলে পরিবেশ ও কৃষির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখা হবে।”
মাটি কাটার ফলে হাওর রক্ষা বাঁধ ও আশপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: