৩৩ প্রার্থীর মধ্যে টিকে থাকলেন মাত্র ১৩ জন
সিলেটের ছয়টি আসনে ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর এ চিত্র উঠে আসে।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হন, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই কঠোর বিধানের মুখে সিলেটের ৬টি আসনের অধিকাংশ প্রার্থীই নিজেদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
সিলেট-১: এই হেভিওয়েট আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৪০ হাজার ৬৯২ ভোটের প্রয়োজন ছিল। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (১,৭৬,৯৩৬ ভোট) ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা হাবীবুর রহমান (১,৩৪,৯৮৩ ভোট) বাদে বাকি ৬ জনই জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৩১৪ ভোট।
সিলেট-২ ও ৩: সিলেট-২ আসনে জামানত রক্ষায় ২০ হাজার ৫৬৩ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৩ জন তা অর্জনে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে সিলেট-৩ আসনে চারজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ জাতীয় পার্টির প্রার্থীও রয়েছেন।
সিলেট-৪, ৫ ও ৬: সিলেট-৪ আসনে ৩ জন এবং সিলেট-৬ আসনে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র মুসলিম লীগের প্রার্থী বিলাল উদ্দিন জামানত খুইয়েছেন। সিলেট-৬ আসনে জামানত হারানোদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল নূরও।
সিলেটের এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: