সিলেটে তিন দিনে তিন ছিনতাই: নগরে আতঙ্ক
সিলেট নগরীতে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নগরীর দুটি এলাকায় সংঘটিত পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনায় নারী ও শিশুকে টার্গেট করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
গত বুধবার (৬ মে) সকালে নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার চান্দাই পশ্চিমপাড়া পিরবাড়ি এলাকায় শিশুসন্তানকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন শামিমা নাসরিন নামের এক নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁর পথরোধ করে। একপর্যায়ে একজন শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখায় এবং অন্যজন নারীর গলা চেপে ধরে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ছিনতাইকারীরা একটি স্বর্ণের চেইন ও দুই জোড়া স্বর্ণের রিং নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এর পর দিন ৭ মে নগরীর আম্বরখানা–বিমানবন্দর সড়কের কেওয়াপাড়া এলাকায় আরেক নারী র্যাব পরিচয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন এবং কান থেকে দুই জোড়া স্বর্ণের রিং ছিনিয়ে নেয়।
দুই ঘটনায়ই ছিনতাইকারীরা সংঘবদ্ধভাবে পরিকল্পিত কায়দায় হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে নারী ও শিশুকে টার্গেট করায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীতে টহল ও নজরদারি বাড়ানোর কথা নিয়মিত বলা হলেও বাস্তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে কেওয়াপাড়া এলাকার ঘটনাতেও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে— নগরীর ব্যস্ত এলাকায় দিনের আলোতে নারী ও শিশুকে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের পরও কেন এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। টানা দুই ঘটনায় সিলেট নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: