সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহে ধস: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় শঙ্কা
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহে ধস: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৯/০৫/২০২৬ ১৪:৪০:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের ১৯৩টি হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের ঘ্রাণের বদলে ছড়িয়ে পড়ছে পচা ধানের দুর্গন্ধ। চৈত্র বৈশাখের অকাল বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার কৃষকের সারা বছরের ঘাম ঝরানো ফসল। একদিকে প্রকৃতি আর অন্যদিকে ঋণের বোঝা এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সুনামগঞ্জের কৃষকরা এখন দিশেহারা। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, সরকারের ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এবার ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।


​দেখার হাওরের লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হালুয়ারগাঁও গ্রামের মাঝারি কৃষক রইছ মিয়া। ১৮ কিয়ার জমিতে বোরো আবাদ করতে খরচ করেছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্বপ্ন ছিল অন্তত ১৫০ মণ ধান গোলায় তুলবেন। কিন্তু প্রকৃতি সহায় হয়নি। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে তার ১৫ কিয়ার জমিই এখন পানির নিচে।


​হতাশাগ্রস্ত রইছ মিয়া বলেন, কপাল খারাপ। আওর আর কত পানি নিতো? আওর তো ভরাট হয়ে গেছে। এখন ৮ জনের সংসারে সারা বছর কী খাব, আর সামনের বার কীভাবে চাষ করব সেই দুঃস্বপ্নই তাড়া করছে।


​একই অবস্থা দিরাইয়ের স্বপন রায় কিংবা বিশ্বম্ভরপুরের রাসেল মিয়ার। কারো কাটা ধান ভিজে অঙ্কুর গজিয়ে গেছে, কারো আবার শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার সামর্থ্যটুকুও অবশিষ্ট নেই।


​কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু জলাবদ্ধতা আর ধানের গুণাগুণ নষ্ট হওয়ায় সরকারি গুদামগুলোতে কৃষকদের কোনো ভিড় নেই।


​পরিসংখ্যান বলছে ​সুনামগঞ্জ খাদ্য বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ২১,৩৪৯ টন, ​৭ এপ্রিল পর্যন্ত অর্জিত সংগ্রহ মাত্র ৯৫.৬ টন এবং ​শাল্লা ও বিশ্বম্ভরপুরের মতো উপজেলায় সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ টন করে।


​নষ্ট হওয়া ধানে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং গুণাগুণ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়ায় কৃষকরা গুদামে ধান নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে জেলায় নির্ধারিত ১৪৪ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।


​সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের মতে, হাওর ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত স্লুইসগেটের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্চ ও এপ্রিলে গতবারের চেয়ে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় শ্যালো মেশিন দিয়েও শেষ রক্ষা করা যায়নি।


​ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মুশফিকুর রহমান জানান, গত বছরও প্রায় ১৫ হাজার টনের বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বৃষ্টির কারণে ধানে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় কৃষকদের ধান শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, টানা বৃষ্টিতে ধান শুকানোর মতো রোদ বা জায়গা কোনোটিই কৃষকের নাগালে নেই। 


হাওরাঞ্চলের এই কৃষি বিপর্যয় কেবল সুনামগঞ্জের নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অশনিসংকেত। প্রান্তিক কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে এখনই সরকারি বিশেষ প্রণোদনা ও ঋণ মওকুফের মতো জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায়, ঋণের দায়ে আগামীতে অনেক কৃষককেই মাঠ ছাড়তে হতে পারে।

প্রীতম দাস/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad