দুই পাড়ের সাঁড়াশি ভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রাম
Led Bottom Ad

দোয়ারাবাজারে থামছেনা নদী ভাঙন

দুই পাড়ের সাঁড়াশি ভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রাম

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯/০৫/২০২৬ ১৯:৩৩:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। সুরমার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ক্রমশ বিলীন হতে চলেছে ইদনপুর ও আজমপুরসহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন চোখের সামনে নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি আর আজীবনের স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি। একদিকে সুরমার ভাঙন, অন্যদিকে নোয়াগাঁও খালের তীব্রতা—এই দুইয়ের সাঁড়াশি আগ্রাসনে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার মানুষ। তাদের নির্ঘুম রাত কাটছে চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়।

সরেজমিনে দেখা যায় সুরমা নদীর পাড়জুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেবল দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার। কারণ চোখের পলকেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে প্রান্তিক কৃষকের সারা জীবনের সম্বল। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিবছর বর্ষা আসার আগেই ভাঙন তীব্র রূপ নিলেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

ইদনপুর গ্রামের মাস্টার নজির উদ্দিন ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জানান, তাদের চোখের সামনেই গ্রাম দুটি ছোট হয়ে আসছে এবং এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই জনপদগুলোর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট থাকবে না। 

একই আর্তনাদ শোনা গেল আজমপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন নদী শুধু মাটি নয় বরং তাদের স্বপ্নগুলোও কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও আর অবশিষ্ট নেই।

শুধু সুরমা নদী নয় বরং মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীর পার্শ্ববর্তী নোয়াগাঁও খালের ভাঙন যা ইদনপুরসহ দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে এই খালে মাটি ভরাট করা এবং সুরমা নদীর পাড় রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা এখন অনিবার্য হয়ে দাড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এখলাছুর রহমান রাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান নদী আর খালের মাঝখানে তারা যেন এক চিলতে দ্বীপে বন্দি হয়ে আছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকাটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এই মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন জানান তারা ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad