সিলেটে মানবাধিকার সংগঠনের নামে সরকারি অনুদানের টোপ
Led Bottom Ad

থানায় জিডি

সিলেটে মানবাধিকার সংগঠনের নামে সরকারি অনুদানের টোপ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৯/০৫/২০২৬ ১৮:৩৩:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে মানবাধিকার সংগঠনের নাম ও পদবী ব্যবহার করে সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার নামে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা-এ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।


প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের অফিস সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম সামাদ-এর মোবাইল ফোনে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি যোগাযোগ করে নিজেদের সমাজসেবা অফিসের অডিট অফিসার ও সিনিয়র অফিসার পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলা থেকে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা দিলে বড় অংকের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।


এরপর সংগঠনের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কমিটিকে ৫ জন করে উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়। তবে লিখিত কাগজপত্র দিতে গড়িমসি করায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়, উল্লিখিত নামে কোনো কর্মকর্তা সেখানে কর্মরত নেই।


অভিযোগ রয়েছে, প্রতারক চক্রটি দ্রুত অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্যের কাছ থেকে অর্থ নেয়। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসান ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।


এ বিষয়ে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সঈদ বলেন,“আমি শুধু নামের তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছিলাম। কোনো আর্থিক লেনদেন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু আমাকে না জানিয়েই টাকা লেনদেন করে এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”


সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসাইন খান বলেন,“আমাদের সংগঠন মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে, টাকা লেনদেনের জন্য নয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এবং সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিতে এই পরিকল্পনা করেছে।”


তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবু সঈদের ছবি ব্যবহার করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সরকারি অনুদান বা প্রকল্পের নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে টাকা দেওয়ার কোনো বিধান নেই। সন্দেহজনক ফোনকল বা আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব পেলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি দপ্তর বা পুলিশকে জানাতে হবে।


বর্তমানে পুলিশ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতারক চক্রটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad