রাজনগরে ৩ কোটি টাকার স্লুইসগেট এখন কৃষকের গলার কাঁটা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় অপরিকল্পিত নির্মাণ আর তদারকির অভাবে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি স্লুইসগেট এখন কৃষকদের আর্শীবাদ হওয়ার বদলে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় গেটগুলোর যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে, আর বর্ষায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এগুলো কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয় কৃষকদের।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ধামাইছড়ার ওপর উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল ও চানবাগ এলাকায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্লুইসগেট দুটি নির্মাণ করে। ২০১৫ সালে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় সমিতির কাছে হস্তান্তরের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২০১৬ সালের পাহাড়ি ঢলে বড়দল গেটটির দক্ষিণ পাড় এবং চানবাগ গেটটির পশ্চিম পাড় ভেঙে যায়। ছড়াটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে নেওয়ায় নির্মাণের পর এক মৌসুমও সুফল পাননি কৃষকেরা। বর্তমানে পানির চাপ সামলাতে না পেরে গেট দুটি অকেজো হয়ে আছে এবং পানি সরবরাহের পাইপগুলো চোরেরা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কপাট বন্ধ থাকায় নিচে পলি জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই স্থাপনাগুলো।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গেট দুটি সচল না থাকায় প্রতি বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করে মাটির বাঁধ দিয়ে তাঁদের ফসল রক্ষা করতে হচ্ছে।
ধামাইছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক জানান, বারবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অথচ এই স্লুইসগেট দুটি সচল করা গেলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের ভুরভুরির বিল, ফাটাবিলসহ হাওর এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে অনায়াসেই ফসল চাষ সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল গনি জানান, স্লুইসগেট দুটি মেরামতের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: