সিলেটে স্বস্তির হাওয়া: মন্ত্রিসভায় দুই হেভিওয়েট নেতা আরিফুল ও মুক্তাদীর
নতুন গঠিত মন্ত্রিসভায় সিলেট বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী স্থান পাওয়ায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আনন্দের জোয়ার। দুজনেই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এই দুই নেতার মন্ত্রিত্ব সিলেটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্ব পেয়েছেন এই দুই নেতা। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়।
কমিশনার থেকে মন্ত্রী: আরিফুল হক চৌধুরীর উত্থান
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের সফল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবার সিলেট-৪ আসন থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু। ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে মেয়র এবং এখন পূর্ণ মন্ত্রী। ১৯৫৯ সালে জন্ম। পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হলেও তিনি সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার কারাবরণ করলেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের সাফল্য
সিলেটের বনেদি পরিবারের সন্তান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এবার মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন সিলেট-১ আসনের দুইবারের সাবেক এমপি। ২০১১-১২ সালের দিকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচন করে সফল না হলেও এবার বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। তিনিও বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
সিলেটে এই দুই নেতার আলাদা বলয় থাকলেও নির্বাচনের সময় থেকেই তারা একযোগে কাজ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক উভয়েই আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই দুই নেতার হাত ধরে সিলেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে এম সাইফুর রহমান (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী) এবং অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী (প্রতিমন্ত্রী) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিলেটের দুই নেতা ক্যাবিনেটে শক্তিশালী অবস্থান পেলেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: