সিলেটের প্রাচীন ‘তাল ইফতারি’ প্রথা: উৎসবে মিশে আছে নিম্নবিত্ত বাবার দীর্ঘশ্বাস
Led Bottom Ad

সিলেটের প্রাচীন ‘তাল ইফতারি’ প্রথা: উৎসবে মিশে আছে নিম্নবিত্ত বাবার দীর্ঘশ্বাস

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২০/০২/২০২৬ ১১:৪৯:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ 'তাল ইফতারি' বা মেয়ে-বোনের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর প্রথাটি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এখন এক সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের প্রথম রমজানে বাপের বাড়ি থেকে বড় পরিসরে ইফতার সামগ্রী, মিষ্টি ও ফলমূল পাঠানোকে সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। রমজানের শুরু থেকেই জগন্নাথপুরের গ্রামগুলোতে ভ্যান বা সাজানো ডালিতে করে রকমারি ইফতারি ও মৌসুমি ফল মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর ধুম চলছে, যা দুই পরিবারের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।

তবে কালের বিবর্তনে এই প্রথাটি এখন আভিজাত্যের লড়াইয়ে রূপ নেওয়ায় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই ‘ইফতারি দেওয়া’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাবা-মা মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সন্তুষ্টির জন্য নিজের গরু-ছাগল বা হাঁস-মুরগি বিক্রি করে, এমনকি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছেন। আলেম-উলামা ও সমাজকর্মীরা এই প্রথাকে ‘অমানবিক ও জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, সামর্থ্য না থাকলেও সামাজিক লোকলজ্জা আর মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে অনেক বাবা-মা বছরের পর বছর এই ঋণের বোঝা টানেন। সিলেট অঞ্চলের এই প্রাচীন প্রথাটি যেন কোনো বাবার জন্য কষ্টের কারণ না হয়, সেজন্য এই অমানবিক রেওয়াজ বন্ধের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad