তাহিরপুরের হাওরে ব্লাস্ট রোগের হানা : দিশেহারা কৃষকরা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলোতে বোরো ধানে ছত্রাকজনিত ‘ব্লাস্ট’ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উফশী জাতের ব্রি-৬৭ ধানে এই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক কিনে জমিতে ছিটালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে মাঠের পর মাঠ সাদা চিটা হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুরের ছোট-বড় ২৩টি হাওরে এ বছর প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের ব্রি-৬৭ ও ব্রি-২৮ ধানে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ব্রি-৬৭ জাতটি ২০-২২ বছরের পুরনো হওয়ায় এর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে কৃষকদের এই জাত চাষ না করতে আগে থেকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক কৃষক নিজেদের খাওয়ার জন্য বা অভ্যাসবশত এই জাত চাষ করে এখন ফলশূন্য মাঠের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।
শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওর ঘুরে দেখা গেছে, শুরুতে থোড় ভালো থাকলেও বের হওয়ার পর সেগুলো সাদা হয়ে যাচ্ছে। মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক সবুজ মিয়া জানান, ১০ কিয়ার জমিতে ব্রি-৬৭ চাষ করে তিনি এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন যে, জমিতে কাঁচি চালানোর অবস্থাও নেই। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শনির হাওরের কৃষক এবাদুল ইসলাম। অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অনেক জায়গায় সেচ সংকটের কারণে ফলন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক বা তারও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ব্রি-৬৭ ধানে ব্লাস্ট আক্রমণের বিষয়ে কৃষকরা প্রতিনিয়ত অফিস ও ফোনে অভিযোগ করছেন। সরকারিভাবে এই জাতের বীজে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি এবং এটি চাষে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া ও বীজের বয়সের কারণে ব্লাস্টের সংক্রমণ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিপর্যয়ের ফলে এ বছর সরকার নির্ধারিত ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামীতে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন উদ্ভাবিত জাত চাষের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: