জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে সিলেটে পরিবহন খাতে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘যৌক্তিক ভাড়া’ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। দাবি আদায় না হলে সিলেটজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর কদমতলীস্থ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, গত শনিবার রাত থেকে ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হলেও সরকার এখন পর্যন্ত ভাড়া সমন্বয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে চরম লোকসান দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহীম সভায় জানান, শুধু জ্বালানি তেল নয়, গত কয়েক বছরে টায়ার ও ইঞ্জিন পার্টসসহ যন্ত্রাংশের দামও দ্বিগুণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা দেওয়া সত্ত্বেও বিআরটিএ বা মন্ত্রণালয়ের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতারা জানান, দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো পথ থাকবে না।
সমিতির সভাপতি আব্দুর রহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হিরন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শেখ এমরান হোসেন ঝুনু, এবং জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জ্বালানি তেলের প্রভাবে ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে; এর ওপর পরিবহন ধর্মঘট শুরু হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনভোগান্তি এড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: