সিলেটে আত্মহত্যা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল মিডিয়া রিপোর্টিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সিলেটে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্বশীল রিপোর্টিং বিষয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে টেলিসাইকিয়াট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক লিমিটেড, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘লাইভ লাইফ’ উদ্যোগের যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালা সম্পন্ন হয়। এতে সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৩ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, ডব্লিউএইচও সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফর এবং সিলেট জেলার প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মো. আমানত উল্লাহ। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও টেলিসাইকিয়াট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. তানজির রশিদ সরণ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নোবেল এবং কালের কণ্ঠের সিলেট ব্যুরো প্রধান ইয়াহিয়া ফজল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. কাজী শামীন আজমিরি।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং ৬.৭ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) আক্রান্ত। প্রতি বছর বাংলাদেশে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন, অথচ আক্রান্তদের মধ্যে ১০ শতাংশের কম মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। আলোচকরা বলেন, আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে যাতে তা অন্যদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য যেহেতু দৃশ্যমান নয়, তাই এর প্রকোপ বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: