বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়ামের তালিকায় সিলেট, পেছনে পড়ল লর্ডসও
শুধু চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা লড়াই নয়, কখনো কখনো এটি প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত ছবি। আর সেই ছবির বুকে যদি থাকে ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড় আর চারপাশের সতেজ চা-বাগান? ঠিক এমনই এক নয়নাভিরাম স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশের সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এবার এই মাঠটির মুকুটে যুক্ত হলো এক অনন্য বৈশ্বিক পালক।ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্রিকেট সাময়িকী ‘ক্রিকেট ৩৬৫’-এর করা বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সাতটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের এই ভেন্যুটি। শুধু তালিকায় স্থান পাওয়াই নয়, সৌন্দর্যের বিচারে এই মাঠটি পেছনে ফেলে দিয়েছে ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডকেও।প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
অন্যদিকে ক্রিকেটের অন্যতম প্রাচীন এবং অভিজাত ভেন্যু ইংল্যান্ডের লর্ডস রয়েছে তালিকার সপ্তম স্থানে।সিলেটের বিমানবন্দর সড়কের লাক্কাতুরা চা-বাগানের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামটির ভূয়সী প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমটি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঢেউ খেলানো পাহাড় আর সবুজ চা-বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি চোখের জন্য এক পরম শান্তি। এর শান্ত, সবুজ পরিবেশ দেখে মনে হয় যেন কোনো সবুজ স্বর্গের মাঝখানে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে।’ বিশেষ করে সকালের কুয়াশা কিংবা গোধূলির আলোয় যখন ফ্লাডলাইটগুলো জ্বলে ওঠে, তখন পুরো মাঠ এক মায়াবী রূপ ধারণ করে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
‘ক্রিকেট ৩৬৫’-এর মূল্যায়নে বিশ্বের সেরা ৭ সুন্দর স্টেডিয়াম অবস্থান
১. নিউল্যান্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামদক্ষিণ আফ্রিকা ২. অ্যাডিলেড ওভাল অস্ট্রেলিয়া ৩. হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম (ধর্মশালা)ভারত ৪. গওয়াদর ক্রিকেট স্টেডিয়ামপাকিস্তান ৫. সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামবাংলাদেশ ৬.ড্যারেন স্যামি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭.লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড ইংল্যান্ড অনন্য গ্রিন গ্যালারি ও আন্তর্জাতিক পথচলা।
২০০৭ সালে বিভাগীয় স্টেডিয়াম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই মাঠের। এরপর থেকেই এটি দেশের অন্যতম প্রধান ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়।এই স্টেডিয়ামের মূল আকর্ষণ হলো এর ‘গ্রিন গ্যালারি’ বা ঘাসের তৈরি গ্যালারি। যেখানে দর্শকরা গ্যালারির কংক্রিট ছেড়ে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি, সবুজের বুকে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন।ক্রিকেট বিশ্বের বড় বড় তারকা ও ধারাভাষ্যকাররা বিভিন্ন সময়ে সিলেটে এসে এর সৌন্দর্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক মাঠকে পেছনে ফেলে সিলেটের এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো এবং পর্যটনের জন্য এক বিশাল গৌরব। প্রকৃতি আর ক্রিকেটের এই অপূর্ব মেলবন্ধন সত্যিই সিলেটকে করে তুলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য ‘সবুজ অহংকার’।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: