বড়লেখার গরুর হাটে ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’!

দাম শুনে ক্রেতাদের চোখ চড়কগাছ

বড়লেখার গরুর হাটে ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’!

মোঃ হিফজুর রহমান

২৭/০৫/২০২৬ ২০:১২:২৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। মৌলভীবাজারের বড়লেখার পশুর হাটগুলোতে এখন পা ফেলার জায়গা নেই। তবে গরু-মহিষের এই বিশাল সমাগমের মধ্যেও পুরো হাটের সব লাইমলাইট একাই কেড়ে নিয়েছে ২৮ মণের এক ‘মহাশয়’। তার গালভরা নাম—‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’!


কোনো সিনেমা বা নাটকের চরিত্র নয়, এটি আসলে জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের খামারি কাজল মিয়ার আড়াই বছরের লালন-পালন করা এক বিশাল আকৃতির দেশি ষাঁড়। হাটে সাধারণত ‘রাজা’, ‘সম্রাট’ কিংবা ‘বলবান’ নামের গরুর দেখা মিললেও, এই ষাঁড়ের এমন গম্ভীর ও বনেদি নাম শুনে অনেক ক্রেতাই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকে আবার মজা করে বলছেন, “গরুর নাম ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’! তা ভাইয়ের পদবিটা কী খাঁটি দেশি, নাকি অন্য কিছু?”


খামারি কাজল মিয়া অবশ্য বেশ গর্বের সাথেই জানালেন, কোনো রকম মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই শুধু খুদ, ভুসি, খৈল আর ঘাস খাইয়ে পরম যত্নে এই ‘পাটওয়ারী সাহেব’কে বড় করা হয়েছে। শখ করে রাখা এই নামের ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে মাত্র ৮ লাখ টাকা! দাম শুনে অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতার আবার ‘নাসীরুদ্দীন’কে দেখার চেয়ে নিজেদের পকেটের দিকে তাকিয়েই বেশি ‘ফিট’ হওয়ার জোগাড়।


সরেজমিনে বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেল, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’কে এক নজর দেখতে রীতিমতো সেলফি শিকারি ও উৎসুক জনতার জটলা লেগে গেছে। তবে জটলা যতোই বড় হোক, বিক্রেতা কাজল মিয়ার মুখের হাসি একটু মলিন। কারণ, মানুষ দেখতে আসছে দেদারসে, কিন্তু ৮ লাখ টাকার দাম শুনেই একে একে ‘পাততাড়ি’ গুটিয়ে কেটে পড়ছে।


হাটে আসা ক্রেতা মো. নিজাম উদ্দিন ও মার্জানুল ইসলাম আক্ষেপ করে বললেন, “ভাইরে ভাই, হাটে পশুর অভাব নাই, কিন্তু বিক্রেতাদের দামের বহর দেখে মনে হচ্ছে গরুর সাথে সোনার চেইন ফ্রি দেবে! আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য এবার কোরবানি দেওয়া বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ।” অন্য খামারিরা আবার গো-খাদ্যের চড়া দামের দোহাই দিয়ে বলছেন, “ক্রেতারা দাম শুনেই এমনভাবে দৌড় মারছেন যেন আমরা গরুর দাম নয়, মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করছি!”


এদিকে হাটের এই গমগমে ও চড়া মেজাজের আবহে যাতে কোনো ‘নকল নোট’ ঢুকতে না পারে, সেজন্য জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন নিয়ে কড়া পাহারায় আছে পুলিশ ভাইয়ারা। আর গরুদের ব্লাড প্রেশার ঠিক আছে কি না, তা তদারকি করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম অবশ্য অভয় দিয়ে জানালেন, উপজেলায় পশুর কোনো ঘাটতি নেই। তবে শেষ পর্যন্ত এই ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’ কার গোয়ালে যান, নাকি দামের চোটে খামারির ঘরেই ফেরত যান—সেটাই এখন বড়লেখার টক অব দ্য টাউন!

হিফজুর রহমান / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: