মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর বিল পাস

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর বিল পাস

প্রথম ডেস্ক

০৪/০৬/২০২৬ ১০:০০:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ পরিচালনা বা যেকোনো ধরনের আকস্মিক সামরিক আগ্রাসন চালানোর নির্বাহী ক্ষমতা কঠোরভাবে সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী একটি ‘যুদ্ধক্ষমতা বিল’ (ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন) পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের আনা অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটের সামান্য ব্যবধানে সফলভাবে পাস হয়; এই বিশেষ প্রস্তাব পাসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দীর্ঘদিনের ‘শত্রুতামূলক সামরিক সংঘাত’ ও উত্তেজনা থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিতে হোয়াইট হাউস তথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ করার একচ্ছত্র ক্ষমতাকে লাগাম টানার লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই প্রথম কোনো জোরালো প্রচেষ্টা নয়, তবে এর আগে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার এমন তিনটি বড় রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলেও এবারই প্রথম ডেমোক্র্যাটদের আনা এমন কোনো শক্ত প্রস্তাব হাউসে পাস হতে সক্ষম হলো; প্রতিনিধি পরিষদের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এখন রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কিন উচ্চকক্ষ সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি রাজনৈতিক গতি ও সাহস সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে কোনো বিল বা প্রস্তাব পাস হলেও শেষ পর্যন্ত স্বয়ং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কিছুই চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয় না এবং আর ঠিক এই কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা জোরালো ধারণা করছেন যে, নিজের একক নির্বাহী ক্ষমতা ও আধিপত্য সীমিত করার ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো আইনি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ ‘ভেটো’ (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সেনাবাহিনী বা মার্কিন সেনা পৃথিবীর কোথাও কোনো যুদ্ধাভিযানে পাঠানো হবে কি-না, তা নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক ও ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের রয়েছে, হোয়াইট হাউস বা রাষ্ট্রপতির একক কার্যালয়ের নয়; দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিচালনার এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে মার্কিন কংগ্রেসের একধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবারই প্রথম তারা জোরালোভাবে নিজেদের আইনসভা ও সাংবিধানিক ক্ষমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটাল। ওয়াশিংটনের শীর্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির আংশিক নিয়ন্ত্রণাধীন বা চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি কক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এমন বিল পাস হওয়া নিশ্চিতভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সত্যিই এক বিরল ও বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা। প্রতিনিধি পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির বিষয়ে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হাউসের এই প্রস্তাব পাসে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের দলীয় লাইন ভেঙে যোগ দেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিরই চারজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের আরো ছয়জন সদস্য ভোটদানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। যে চারজন কট্টর রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তাঁরা হলেন— মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক এবং কেনটাকির থমাস ম্যাসি; যেখানে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে মার্কিন রাজনীতিতে ক্রমেই সোচ্চার হয়ে ওঠা থমাস ম্যাসি সম্প্রতি কংগ্রেসে নিজের আসন ধরে রাখার প্রাথমিক বা দলীয় ‘প্রাইমারি’ বাছাইয়ের অভ্যন্তরীণ দৌড়ে ট্রাম্পপন্থীদের কাছে হেরে গেছেন। যার সহজ অর্থ হলো, চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করবেন ট্রাম্পের সরাসরি আশীর্বাদপুষ্ট ও সমর্থিত কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী এড গালরেন।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই যুদ্ধক্ষমতা বিলের পক্ষে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও একাট্টা থাকলেও, মার্কিন উচ্চকক্ষ সিনেটের চিত্রটি কিন্তু মোটেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এতটা সহজ ছিল না; সেখানে গত মাসে ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতার লাগাম টানার এই প্রস্তাবের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে গিয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সরাসরি বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন দলছুট ও বিতর্কিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান। অবশ্য গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিপরীত মেরুর তিনজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটরের সরাসরি সমর্থনে মার্কিন সিনেটে এই বিলের খসড়া প্রস্তাবটি কৌশলগতভাবে এক ধাপ এগিয়ে রাখা হয়েছে; তবে মার্কিন সিনেটের মূল ফ্লোরে এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ভোট কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো ওয়াশিংটনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad