জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
‘ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় প্রয়োজনে সবার আগে বুক পেতে দেবো’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সাধারণ আমানতকারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রয়োজনে তিনি নিজেও রাজপথে নামবেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সবার আগে নিজের বুক পেতে দেবেন।
গতকাল বুধবার রাতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী এক বিশেষ ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। জামায়াত আমির অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ দেশের কোটি কোটি সাধারণ ও খেটে খাওয়া জনগণের ব্যাংক। বিশেষ করে যারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ এই ব্যাংকে আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছেন, এটি মূলত সম্পূর্ণভাবে সেই সাধারণ গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাংক; তাই আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে দেশবাসীকে বলবো, এই ব্যাংকের সুরক্ষায় রাজপথে নামা দেশের সাধারণ আমানতকারীদের ওপর যদি কখনো অন্যায়ভাবে গুলি ছোড়া হয়, তাহলে আমি নিজে স্বশরীরে সবার আগে বুক পেতে দিয়ে খুনিদের বলবো— আগে আমার বুকে গুলি চালান, আমার রক্ত ঝরান, তার পর আমার দেশের নিরীহ গ্রাহকদের ওপর গুলি চালাবেন; কারণ এই ব্যাংক এ দেশের আপামর জনসাধারণের।”
ব্যাংকটির বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাম্প্রতিক বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সদ্য বিদায়ী একজন ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে ক্ষমতার জোরে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; আমি দেশবাসী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক একটি প্রশ্ন রাখতে চাই— একজন চিহ্নিত বড় ঋণখেলাপির স্বামী কীভাবে দেশের সবচেয়ে বড় এবং সংবেদনশীল ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে পারে?” ঈদ পুনর্মিলনীর এই ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির ও সেক্রেটারিগণসহ দেশের সুশীল সমাজ ও পেশাজীবী সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যেখানে জামায়াত আমির দেশের আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট বন্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: