শীর্ষ কারবারিদের ধরার হুঁশিয়ারি
মোহনপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রুখতে ও চিহ্নিত অপরাধীদের দমনে এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে মোহনপুর ট্রলারঘাটে স্থানীয় ‘মাদকপ্রতিরোধ কমিটি’র উদ্যোগে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে এলাকাকে মাদক মুক্ত করার তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ স্থানীয় শীর্ষ মাদককারবারি রেজাউল করিমসহ তালিকাভুক্ত সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, মোহনপুরের মাদককারবারি রেজাউলসহ এলাকার অন্য কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শহরাঞ্চলে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রভাব উল্লেখ করে ওসি আরও বলেন, মাদক এবং অনলাইন জুয়া মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরে আমাদের ধারাবাহিক ও জিরো টলারেন্স অভিযানের কারণে মাদকের সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যে মাদকের দাম আগে ২৫০ টাকা ছিল, তা এখন ১ হাজার টাকায়ও মিলছে না। ফলে শহরে কোণঠাসা হয়ে মাদককারবারিরা এখন গ্রামীণ জনপদকে টার্গেট করছে। গ্রামীণ এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষকে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাবেশে উপস্থিত গ্রামবাসী এ সময় শীর্ষ কারবারি রেজাউলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালে ওসি তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, মাদককারবারি এবং মাদকাসক্তরা সমাজ ও দেশের শত্রু। তারা নিজেদের সাময়িক লাভের আশায় পুরো একটি প্রজন্ম, পরিবার এবং দেশকে ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
তিনি গডফাদারদের অপকৌশল ফাঁস করে দিয়ে বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এলাকার মাদক গডফাদাররা অত্যন্ত চতুর। তারা গ্রামীণ এলাকার অসহায়, দরিদ্র এবং আয়-উপার্জনহীন নারী, পুরুষ ও শিশুদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ও জিম্মি করে মাদক চোরাচালানের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা ইতিমধ্যে মোহনপুর ইউনিয়নের মাদককারবারি ও আসক্তদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা হাতে পেয়েছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সাথে, যারা আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উল হকের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক রইসুজ্জমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ একমঞ্চে দাঁড়িয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সংহতি জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন— অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা কাজি শামসুল হুদা সোহেল, সাংবাদিক শামস শামীম, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম, সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান, বর্তমান ইউপি সদস্য নূরুল আমিন, মসিউর রহমান রাসেল এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ হাত তুলে এলাকা থেকে মাদক, জুয়া ও অপরাধ নির্মূল করতে প্রশাসনকে সব ধরনের গোপন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সজল আহমেদ / প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: