সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে ছাতকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছাতকে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আবারও হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠক উজ্জীবক সুজন তালুকদার। তবে তিনি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে নিজের অবস্থান অটল রাখার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালেও একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন হন। সে সময় প্রশাসনের সহায়তায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন বলে জানান তিনি। এবারও আইন ও ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই সাংবাদিক। গত ১৮ জুন তিনি ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সেই তথ্য জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়ে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেন এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন বলে দাবি করেন সুজন তালুকদার। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রবাসীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং মোবাইল ফোনে হুমকির অভিযোগও তিনি করেন। এসব ঘটনার প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি। পরবর্তীতে ২০ জুন আহমদ আল কবির চৌধুরী ও হাফিজ জালাল উদ্দিনের উদ্যোগে সিনিয়র সাংবাদিক ও ছাতক প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়া রাজু-এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসা হয় এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পরে মোছাদ্দেক আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে সম্মতি জানান বলেও দাবি করা হয়। তবে পরদিন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সভার একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন সুজন তালুকদার। তিনি বলেন, তিনি কোনো বড় মাপের ব্যক্তি নন; একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। যদি কারও দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার ন্যায়সঙ্গত বিচার হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে গালিগালাজ বা হুমকি নয়, বরং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। আইনই সত্য ও মিথ্যা নির্ধারণ করবে—এ বিশ্বাস তার রয়েছে। সুজন তালুকদার নিজেকে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের একজন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৯০৪তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। একজন নাগরিক হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানার ও সংগ্রহের অধিকার তার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সবশেষে তিনি বলেন, সত্যের পথ সহজ নয়, তবে সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা হারানোর সুযোগ নেই। সম্মান বজায় রেখে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সজল আহমেদ/উজ্জীবক সুজন তালুকদার
মন্তব্য করুন: