শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে উত্তাল সুনামগঞ্জ

শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে উত্তাল সুনামগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৬/২০২৬ ২১:৩২:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যুগ পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতির চরম অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকির প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। ২০ জুন (শনিবার) বেলা ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র আলফাত স্কয়ারে হাজারো সনাতনীদের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদী সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেয় কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণ সংসদ ও সনাতনী যুব সংঘসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। ব্যানার, ফেস্টুন আর জয় শ্রীরাম স্লোগানে স্লোগানে এ সময় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা আলফাত স্কয়ার ও এর চারপাশের এলাকা।

​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিকের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তারা তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ চিরকাল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও একটি কুচক্রী ও উগ্রবাদী মহল বারবার সনাতনীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে এবং দেব-দেবীর অবমাননা করে দেশের শান্ত পরিবেশকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

​সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতনীদের মন্দির ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই অপশক্তির লাগাম টানতে হবে।

​হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা ও দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাতকারীদের এবং হুমকিদাতাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সনাতনী সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

​বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন, লোকনাথ সেবা সংঘের সভাপতি ​মতিলাল চন্দ, কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুবসংঘের সভাপতি ​হিমাদ্রি রায় প্রাপ্ত, সৎ সংঘের সভাপতি ​অ্যাডভোকেট কুশল রাজ পাল। ​এছাড়া সনাতনী যুবসমাজের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বক্তব্য রাখেন রিংকু চৌধুরী, মহিতুষ চৌধুরী ও লিপন বৈদ্যসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। যুবনেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সনাতনীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। নিজেদের অস্তিত্ব, ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ের সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের চক্রান্ত প্রতিরোধে জাগ্রত যুবসমাজ এখন রাজপথে নেমেছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। 

​মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ধর্মীয় অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানানো হয়।

প্রীতম দাস/এআর

মন্তব্য করুন: