সিলেটে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

অন্যত্র বিয়ে করলেন প্রেমিক!

সিলেটে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট

২২/০৬/২০২৬ ১৪:৪৪:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর (১৯) অনশনের ঘটনা ঘটেছে। তবে তরুণী অবস্থান নেওয়ার পরদিনই প্রেমিক অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। বর্তমানে ওই তরুণী গত ১৮ দিন ধরে প্রেমিকের চাচার ঘরে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।


ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বগাইয়া উত্তর গ্রামে। অভিযুক্ত প্রেমিক কয়েছ মিয়া ওই গ্রামের হাজি রফিক উদ্দিনের ছেলে।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে কয়েছের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ের প্রস্তাব আসে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হলেও অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে নাকি বাড়িতে হবে—এই দ্বন্দ্বে বিয়েটি ভেঙে দেয় কয়েছের পরিবার।


তরুণীর অভিযোগ, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কয়েছ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবারও যোগাযোগ শুরু করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কয়েছ তাকে সিলেট শহরে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং মুঠোফোনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন।


কিছুদিন পর কয়েছ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তরুণীর পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এক প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার আকদ (বিয়ে) সম্পন্ন হয়। তরুণী জানান, বিয়ের খবর পেয়ে কয়েছ তাদের পূর্বের সম্পর্কের কথা এবং ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিও ওই প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এর জের ধরে প্রবাসীর সঙ্গে তরুণীর বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়ে যায়।


জীবন ধ্বংস করার প্রতিকার ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে গত ৩ জুন বিকেল থেকে কয়েছের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। দাবি পূরণ না হলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, ছেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা যাচ্ছে না।


স্থানীয় ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া ও রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, গত ৪ জুন দুই পরিবারকে নিয়ে সালিশি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কয়েছ উপস্থিত না থাকায় ফোনে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর পরদিনই জানা যায়, কয়েছ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। ছেলের পরিবার বিষয়টি মানতে রাজি না হওয়ায় কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মেয়েটি কয়েছের চাচার ঘরে অবস্থান করছেন।


এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত কয়েছ মিয়া সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। তবে এখন আমার ঘরে আরেকজন স্ত্রী আছে। মেম্বাররা বিষয়টি সমাধান করবেন।"


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, "এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

রোদ্দুর রিফাত / সজল

মন্তব্য করুন: