অভিযুক্ত দলের অপর নেতা জাকারিয়া
মৌলভীবাজারে এনসিপি নেতা অপহরণ ঘটনায় মামলা
মৌলভীবাজারে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এক নেতাকে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকির অভিযোগে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। দাওয়াত দেওয়া, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে কে বা কারা আসন পাবেন —তা নিয়ে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং সদস্য সচিব রুহুল আমিনের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়।
এই কোন্দল কুলাউড়ার কর্মসূচি পেরিয়ে শমশেরনগর রোড পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে এহসান জাকারিয়ার সাথে জেলা এনসিপির মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইনের আরেক দফা উগ্র বাক্যবিনিময় ঘটে।
মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, এই বিরোধেরই চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে। মৌলভীবাজার শহরের কোদালিপুল এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে জুনেদ নামের এক যুবকের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয়।
অপহৃত নেতা আব্দুল্লাহ আল হুসাইন জানান- আমাকে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় অপহরণকারীরা সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে—'এহসান জাকারিয়ার সাথে আর যদি কোনোদিন দ্বন্দ্বে জড়াস, তবে তোকে মেরে একবারে গুম করে ফেলা হবে!
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়। হুসাইন তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীমঙ্গল থানায় হাজির হয়ে এহসান জাকারিয়াসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এটি কোনো বহিরাগত অপরাধ নয়, বরং এনসিপির অভ্যন্তরীণ চরম গ্রুপিং ও কোন্দলের ফসল। ঘটনায় দলেরই ভেতরের একটি শক্তিশালী অংশের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এনসিপি নেতা এহসান জাকারিয়ার বলয়ে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং জেলা কমিটিতে আধিপত্য বিস্তারের যে সুপ্ত প্রতিযোগিতা চলছিল, এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এই অপহরণ মামলার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ নিলো।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর আসামিদের ধরতে এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জোরদার অভিযান ও অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তাহির আহমদ/ সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: