ধর্মপাশায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেদখল হওয়া ২১ শতক জমি উদ্ধার

ধর্মপাশায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেদখল হওয়া ২১ শতক জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৭/০৬/২০২৬ ১৯:০৪:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর সফল প্রয়োগে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দেওয়ানি মামলার জটিলতা ও ভোগান্তি ছাড়াই, প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও জোরালো হস্তক্ষেপে বেদখল হওয়া ২১ শতক মূল্যবান বাজার-ভিটা ফেরত পেয়েছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।


শুক্রবার (২৬ জুন) ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে উপজেলার সুখাইড় বাজারে এক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। সরজমিনে পরিমাপ শেষে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকের প্রতিনিধির কাছে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।


​প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তাহিরপুর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ সরকার গত ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ও ৯ অক্টোবর সুখাইড় মৌজার আরএস ৩৩৫ ও ৬০৫ নং দাগের মোট ২১ শতক ভিটা জমি আরএস রেকর্ডের একমাত্র বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে ২২৩৭ ও ২২৩৮ নং সাফ কবালা দলিলমূলে ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর ক্রেতা নিজ নামে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন।


​কিন্তু জমি ক্রয়ের মাত্র কয়েকদিনের মাথায়, গত ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর স্থানীয় দিকজান গ্রামের চন্দ্র কুমার দাস, জাকির মিয়া, আয়না মিয়া, বাবুল মিয়া ও শরিফ মিয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতারাতি ওই জমিতে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল নেয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার করা হলেও দখলদার চক্রটি আইন অমান্য করে দখল বজায় রাখে। পরবর্তীতে জমির মূল মালিক অভিজিৎ সরকার সুনামগঞ্জ শহরের দীপু তালুকদারকে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) মূলে জমি দেখভালের দায়িত্ব অর্পণ করেন।


​প্রচলিত দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রতার পথে না হেঁটে, গত ১৪ মে আমমোক্তার দীপু তালুকদার নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর অধীনে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


​অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মপাশা ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ জমির মালিকানা সংক্রান্ত সকল নথিপত্র সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করেন। মালিকানার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর দখলদারদের একাধিকবার আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জমি ছাড়েনি। ফলশ্রুতিতে, শুক্রবার প্রশাসন চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযানে নামে।


​অভিযানে ২১ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতক জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট আড়াই শতক জমিতে দখলদারদের বাণিজ্যিক মালামাল থাকায়, মানবিক কারণে এবং স্থানীয়দের অনুরোধে মালামাল সরিয়ে নিতে ১ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।


​ভূমি ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত দীপু তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের মামলার হয়রানি থেকে বেঁচে গেছি এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার পেয়েছি। নতুন ভূমি আইনের কারণেই এত দ্রুত আমরা আমাদের জমি ফেরত পেলাম। প্রশাসনের এই ভূমিকা প্রশংসনীয়।


অভিযান পরিচালনাকারী ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনটি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী অস্ত্র। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্ত কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি। যারা অন্যায়ভাবে জমি দখল করেছিল, তাদের পর্যাপ্ত নোটিশ দেওয়ার পরও আইন অমান্য করায় আজ পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি আড়াই শতক জমি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।


​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া এই ফৌজদারি আইনটি দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এনেছে। অতীতে জমি দখল হলে মামলা চলত যুগের পর যুগ। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তি ও প্রকৃত মালিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে। ধর্মপাশার এই সফল অভিযান সুনামগঞ্জের অন্যান্য অঞ্চলের ভূমিদস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সজল আহমদ/ তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: