‘পাচার চক্র’ নাকি ‘বেড়ানো’, ধোঁয়াশা
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ ৪ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের মাত্র দেড় দিনের মাথায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রাইভেট পড়ার কথা বলে একসঙ্গে চার ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনায় ঠাকুরগাঁওজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবার ও স্বজনদের।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে প্রাইভেটে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই চার ছাত্রী। এরপর তারা আর বাড়ি ফিরে আসেনি। নিখোঁজ ছাত্রীরা হলো—বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খুশি, মল্লিকা, ঋতু দেবনাথ এবং অষ্টম শ্রেণির সুজুতি রানী দেবনাথ।
তারা দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় মঙ্গলবার রাতেই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপরই অভিযানে নামে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতেই আমরা জানতে পারি ছাত্রীরা ঢাকার দিকে যাচ্ছে। বুধবার তাদের অবস্থান সিলেটে শনাক্ত করা হয়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশের একটি দল তাদের ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এদিকে কিশোরী ছাত্রীদের উদ্ধারের পর তারা কেন এত দূর এলো—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে দুটি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য।
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, সিলেট সিটির একটি বাস কাউন্টার থেকে ওই ৪ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তারা সিলেটের পর্যটন এলাকা গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, কোনো মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে ওই ছাত্রীরা সিলেটে গিয়েছিল। তারা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে এলে নিখোঁজের মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।
অন্যদিকে, ভিন্ন তথ্য দিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীরা জানিয়েছে তারা কোনো চক্রের খপ্পরে পড়েনি, বরং স্রেফ বেড়ানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তারা দিনাজপুর হয়ে বাসে চড়ে সরাসরি সিলেটে এসে পৌঁছায়। তাদের উদ্ধার করে থানায় এনে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় পুলিশি হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে। ঠাকুরগাঁও থেকে পুলিশের টিম পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: