খাবার ও পানির সংকটে শ্রমিকেরা
সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদে নৌ-ধর্মঘট
চলন্ত নৌযান থেকে দ্বিগুণ টোল আদায়ের অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে পণ্যবাহী নৌযানের শ্রমিক ও চালকদের লাগাতার ধর্মঘট চলছে। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শনিবার (৪ জুলাই) চতুর্থ দিনেও অব্যাহত ছিল। এর ফলে নদীটিতে নির্ধারিত রুটে কয়লা ও পাথর পরিবহন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
নৌশ্রমিকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট দাবি করে নতুন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’ এই বাড়তি টোল আদায় করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া। শ্রমিকদের দাবি, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতি টন কয়লা ও পাথর পরিবহনে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা হারে টোল নেওয়া হতো। কিন্তু ১ জুলাই থেকে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই নতুন ইজারাদার প্রতি টনে ৭০ টাকা টোল দাবি করছে। এতে প্রতিটি ট্রিপে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।
ধর্মঘটের কারণে শত শত শ্রমিক প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের পাটলাই নদীতে নৌযান নিয়ে অবস্থান করছেন। তীব্র গরমে স্টিলের তৈরি বাল্কহেডের ওপর আটকে থাকায় এবং আশপাশের বাজার দূরবর্তী হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজিতপুরের নৌশ্রমিক হাসান অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের মারধর ও হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থবিরতা চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে জানতে পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটিতে গেলে কর্মচারীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ইজারাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাছির মিয়া মুঠোফোনে জানান, গত বছর ঘাটের ইজারামূল্য ছিল ৪ কোটি টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষই টোলের হার বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বৈঠক হয়েছিল এবং সেখানে টোল আদায়ের বিষয়ে একটি সাময়িক সম্মতি হলেও শনিবার সকাল থেকে তারা আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মতিউর রহমান খান বলেন, "বিষয়টি জানার পর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হবে।"
এদিকে নৌ-ধর্মঘটের কারণে তাহিরপুরের নদীপথে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তানজুমা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: