মৌলভীবাজারে ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বোন, প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে উল্টো বোনের পরিবারের ওপর হামলা, মামলা ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের এরশাদুর রহমান আরজুর মেয়ে মল্লিকা আক্তার এই অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে মল্লিকা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন সিলেট শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা তাঁর বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম হাসান কয়েক বছর আগে চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর (মল্লিকা) বসতবাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। পঞ্চম শ্রেণি পাস হাসান হঠাৎ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতে শুরু করেন। এমনকি আশ্রিত থাকা অবস্থাতেই তিনি বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালান এবং প্রায়ই ডিসি, এসপি, ওসির চাকরি খেয়ে দেওয়ার মতো হুমকি দেন।
মল্লিকা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, সিরাজুল হাসান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে থানা-পুলিশকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে সীমাহীন হয়রানি করছেন। একপর্যায়ে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর চেষ্টাও করা হয়, যা গ্রামবাসীর প্রতিবাদের মুখে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সিরাজুল হাসান নিজের হাত নিজে কেটে মিথ্যা মামলা দিয়ে মল্লিকার নিরীহ স্বামীকে জেল খাটান বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এছাড়া জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে এবং নামের আগে ‘সৈয়দ’ বসিয়ে হাসান এলাকায় চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সবশেষ গত ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলাম হাসান তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেন এবং ১৬ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে মল্লিকা আক্তার দাবি করেন। এই ঘটনায় গত ৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। এ সময় তাঁর স্বামী, সন্তান ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ভগ্নিপতি প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন। এর প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
তবে জায়গার মালিকানার বিষয়ে হাসানের ছোট ভাই আল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মায়ের নামে এই জায়গা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ টাকার জোগান বড় বোন মল্লিকাই দিয়েছিলেন।
আর আর
মন্তব্য করুন: