গুচ্ছ কবিতা
ওয়াহিদ রোকন এর কবিতা ‘হাবিল-কাবিল ও অন্যান্য’
মুর্শিদ ধন হে
*
তোমারে মনে পড়লে গলা গুণগুণ করে
মুহুর্তের আবহে উদাস হয় দুইপহর
দশের মনে দেশের আসর মাগতাম
রাইতের মালজুড়ার ভিতর
তোমারে গান গাই।
গাইয়া তোমার গান
বাঁকে বাঁকে ভাসে পানসিবহর
বাউলা ঢেউয়ের তালে কালনীর স্রোতে,
পাল তোলা নৌকায় ভাইটাল বাও
রে মন উজান ধল যাও
তোমার স্বরে সুজন, বারিষার দিন গুনি
ভাবি আমারে বানাইছেন কোন মেস্তরি,
সুর দিয়া ভাসাইছেন দেহাতিত সাগরে
গানে থাকো করিম, মর্মে থাকে না শরীর
দরশন মাগি, মুর্শিদ ধন হে
মুর্শিদ ধন হে...
পানি আইলো না
*
বারিষা আইলো অথচ পানি আইলো না
ভাবতে ভাবতে হাওন মাস আইলো
তবু যে একঋতু ঘুম আসতেছে না
নিদানে মুরালি চাউলের পিঠা খাই
তবু ভাতঘুমের পরে দুশ্চিন্তা ছাড়ে না
বেহায়া পানি যদি আসে ভাদো মাসে !
জলধান নিয়া করবা আল্লা আল্লা,
কইবা- গেল রে গেল সখের রাণীমাছ...
তবু কোনও শহরের ব্যালকনিতে
আসবে তো ধমকা হাওয়া
এমন ভরা বারিষাতেও মাংস উষ্ণ হবে
আর মাছের নেশা ধরবে কেবল তোমারি
পানি না আইলেও- এমনকি বেদিনেও
আগের বারের মাছের রাইশে
অলঅলি, খলখলি করে তোমার পরান ।
ঝাউপুকুরে
*
বিশেষ কোনও অঙ্গ-ও সতন্ত্র না
কেবল মাথা, কিংবা হাত দুইখানা,
পা, অথবা যে চোখের চাহনিতে
মানুষ চিনো, তাই কেবলমাত্র তুমি না
প্রেম তো তেমন, শুধু যে মায়া-মমতা
তাও না! আরও আছে...
আবার বুকে আগলে রাখলে
তবে সেক্স, তবেই প্রেম ।
নাহলে কয়েকটা বিকাল, দুপুর আর নির্ঘুম রাত,
কিংবা ঘুম ভেঙে পানসে লাগবে
ঝাউপুকুরে স্বপ্নের লাইখেলা ৷
লাভ রিয়েক্ট
*
বাতাসে রইদের তেজ
গাঙেতে ওঠে উতালি ঢেউ
কেমনে পৌছাই নিয়ড়ে তোমার
আমি যে চিঠি হইতাম
যাইতাম কেমনে উড়ে আর ভেসে!
যন্ত্র-চালিত সময়ে মনও পদার্থ
কখন যে রুপ বদলায়!
কথা বানায়, ইমোজি সাজায়
আমি ঢুইকা যাই-
হোয়াটসঅ্যাপে, মেসেঞ্জারে
তবু মন লইয়া যাইতে না-পারা যতো,
যতো বাঁধা, কিছু অবহেলা তোমার
তাও তো হতাশা আমার
তাও জানাই এ-পথে রুশনাই
হতাশাগুলা, স্টিকারগুলা আমার
তোমার লাভ-রিয়্যাক্ট পাইলে
পূর্ণতা পায় ।
হাবিল-কাবিল
*
ও হে আমার বৎস দুই-
চান ও সরুজ,
এই নেও; সাড়ে তিন হাত সীমানা,
কীসের সীমানা পিতা ?
মাটির, তোমরাও তো মাটি
তবু মাটিরে আলগা করতে চাও!
আসমানের চান-সুরুজ মিছা নয়
ফের ছায়া আর শরীরও যে এক নয়
এইরুপ চাইনি দেখিতে!
ভাবী নাই চিনতে ভুল হবে
তোমাদের মধ্যে কে হাবিল
আর কে বা কাবিল!
__________________
( ওয়াহিদ রোকন || কবি, চিন্তক )
আর আর
মন্তব্য করুন: