সুনামগঞ্জের ৪ স্টেশনে নদীর পানি বৃদ্ধি, শাল্লায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ওপরে
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে চারটিতেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে জেলার শাল্লা উপজেলার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি স্টেশনে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭.২৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে।
এদিকে, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ সদর স্টেশনে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৩০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে (বিপদসীমার ৫০ সেমি নিচে)। ছাতক স্টেশনে সুরমার পানি ২১ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮.৩৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে, যা বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। দিরাই উপজেলায় পুরাতন সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৮১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ৭.৭৪ মিটার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার অন্য সব স্টেশনে পানি বাড়লেও ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা যাদুকাটা নদীর পানি লাউড়েরগড় স্টেশনে ৪২ সেন্টিমিটার কমে ৭.২৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এটি বর্তমানে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
বাপাউবো আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকা লাউড়েরগড়ে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া জেলা সদরে ৭৭ মিলিমিটার, দিরাইয়ে ২০ মিলিমিটার এবং ছাতকে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় হাওরাঞ্চলের কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি এবং জরুরি সুরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
আজহারুল / সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: