দোয়ারাবাজারে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, যা বললেন পিআইও
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বরকত নগর এলাকায় গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণ (এইচবিবি) প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের শতভাগ নিয়ম ও সিডিউল বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। স্থানীয় কিছু মহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরাঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরকত নগর এলাকার ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) করণের জন্য ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও সুনামগঞ্জের আগাম বন্যা ও বর্ষাকালীন বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মাঠ পর্যায়ের কাজে কাদা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে টেকসই কাজের স্বার্থেই উপযুক্ত পরিবেশের জন্য অপেক্ষো করতে গিয়ে কাজের সময়সীমা কিছুটা বর্ধিত হয়েছে।
নিম্নমানের ইট ও বালু কম দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লুৎফুর রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে আমাদের কঠোর তদারকি রয়েছে। হাওর ও সীমান্তবর্তী এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে বর্ষাকালে কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাময়িকভাবে কাদা জমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, তবে সিডিউলের বাইরে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি এবং হবেও না।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কাজটি এখনো চলমান এবং চূড়ান্ত বিল অনুমোদনের আগে আমাদের প্রকৌশল টিম মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করবে। সিডিউল অনুযায়ী ইটের মান, আকার ও বালুর স্তর ঠিক না থাকলে ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল আটকে দেওয়া হবে। সরকারের অর্থ অপচয় বা কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। যদি তদন্তে ঠিকাদারের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলসহ আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারি উন্নয়ন কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে শেষ হয়, সেজন্য স্থানীয় জনগণের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা কাম্য। যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শ বা অভিযোগকে দপ্তর ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: