বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে শতভাগ সহকারী সার্জনের পদ খালি: ভবন আছে ডাক্তার নেই
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা স্থবির হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কোনো জনবল পদায়ন করা হয়নি। উল্টো পুরোনো জনবল কাঠামোর প্রায় ৪৫.৬০ শতাংশ পদই শূন্য থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)-এর সর্বশেষ জনবল কাঠামোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে মোট অনুমোদিত ১২৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৮ জন। বাকি ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ সহকারী সার্জনের অনুমোদিত ২০টি পদের সবকটিই (১০০%) শূন্য। এছাড়া মেডিকেল অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ৪টি এবং সিনিয়ার স্টাফ নার্সের ২২টি পদের মধ্যে ৯টি পদ খালি রয়েছে। ফার্মাসিস্ট, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদেও রয়েছে মারাত্মক ঘাটতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনবল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও দরিদ্র রোগীরা। হাসপাতালে কোনো নারী চিকিৎসক না থাকায় এবং এক্স-রে বা রক্তের মতো সাধারণ পরীক্ষার ব্যবস্থা সচল না থাকায় রোগীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে জেলা শহর অথবা স্থানীয় প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের এই সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন চন্দ্র বলেন, “৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আমরা নতুন কোনো জনবল বা বাড়তি বাজেট পাইনি। পুরোনো কাঠামোর ১২৫টি পদের মধ্যে ৫৭টি পদই খালি। বিশেষ করে সহকারী সার্জনের ২০টি পদের সবকটি শূন্য থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ সামলানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, “বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই তীব্র জনবল সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে সেবা ব্যাহত হচ্ছে, এটি অনস্বীকার্য। আমরা শূন্য পদের হালনাগাদ তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত পাঠাচ্ছি। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের জন্য আমাদের জোরালো সুপারিশ রয়েছে। নতুন জনবল পাওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্বম্ভরপুরে পদায়ন করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা এভাবে প্রায় অর্ধেক জনবল দিয়ে চলতে পারে না। অবিলম্বে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে নারী চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
আর আর
মন্তব্য করুন: