সিলেটে বিয়ের দাবিতে তিনদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে কিশোরী
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের কুলুমছড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে টানা তিনদিন ধরে দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছেন মোহনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে মোহনা আক্তার অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কামরুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে তার স্ত্রী বাড়িতে ফিরলেও কামরুল এখনো ফেরেননি।
অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুলুমছড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। আর ভুক্তভোগী মোহনা আক্তার একই ইউনিয়নের বিছনাকান্দি গ্রামের রুনু মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি নিয়ে ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে কিশোরী এখনও বিয়ের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
মোহনা আক্তারের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বাড়ির পাশেই কামরুল ইসলামের বালু ও পাথরের ব্যবসার সাইট ছিল। সে সময় তার চাচার মাধ্যমে কামরুলের তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতে থাকেন।
কিশোরীর দাবি, একদিন বাড়ির পাশের নদীর ঘাটে জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন কামরুল এবং সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এভাবেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় এক বছর ধরে চলতে থাকে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পরে জানতে পারেন কামরুল বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। তখন সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চাইলে কামরুল তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে গত ১১ জুলাই সকালে বিয়ের দাবিতে তিনি কামরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নেন।
মোহনা আক্তার বলেন, সে আমার জীবন নষ্ট করেছে। আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছাড়ব না।
কিশোরীর বাবা রানু মিয়া জানান, কামরুল আমার কিশোরী মেয়েকে প্রলোভন দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করে। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম্য সালিসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে কিন্ত সমাধান হয়নি।
তিনি জানান, বর্তমানে তার মেয়ে বিয়ের দাবিতে কামরুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। কামরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং তার আত্মীয় স্বজনরা তার মেয়েকে মারধর করেছে। তাদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি মিমাংসা করতে না পেরে তিনি বিচারের দাবিতে গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ওমর ফারুক বৃহস্পতিবার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি এখনো ওই বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: