বিশ্বম্ভরপুরে একই চক্রের বিরুদ্ধে ৩ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে খরিদা জমি জবরদখল, গাছ চুরি, বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
সোমবার (১০ আগষ্ট) শহরতলীর পৌরবিপনির দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় পত্রিকা অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আমির আলী জাকেরীন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বিশ্বম্ভরপুর থানার বাঘমারা ও নতুনপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী আমির আলী জাকেরীন, হাজেরা খাতুন ও মমতা খাতুন একই সন্ত্রাসী ও ভূমিখেকো চক্রের ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথমত বাঘমারা এলাকার আমির আলী জাকেরীনের (৫৫) আর.এস রেকর্ডীয় খরিদা ভিটা জমি জবরদখলের অপচেষ্টায় গত ০৫/০২/২০২৩ইং তারিখ ১নং আসামী মোঃ আশরাফ হোসেন গং জোরপূর্বক অনধিকার প্রবেশ করে প্রায় ৭৫,০০০/- টাকা মূল্যের মূল্যবান গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে থানা মামলা না নেওয়ায় সি.আর মামলা নং- ৭৩/২০২৩ইং দায়ের করা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা সরজমিনে না গিয়ে মনগড়া ও একপেশে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার বিরুদ্ধে আদালতে নারাজীর আবেদন করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অসহায় নারী হাজেরা খাতুন (৫৫) গত ২৪/০২/২০২৫ইং তারিখে ২০৩/২০২৫ নং রেজিস্টারী দলিল মূলে হাদিছ মিয়ার নিকট থেকে ২,৮০,০০০/- টাকায় বাঘমারা মৌজাস্থ ০.১৪ একর আমন জমি খরিদ করে ঘর নির্মাণপূর্বক ভোগদখলে থাকলেও আসামী হাদিছ মিয়া, জফুরা বেগম, মোজাম্মিল, সাব্বির ও মারুফা বেগম জমি মেপে না বুঝিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালায়। এমনকি গত ০৮/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে পল্লী বিদ্যুতের লোক মিটার স্থাপন করতে গেলে আসামীরা বাধা দিয়ে তা পণ্ড করে দেয়। বিবাদীদের বিরুদ্ধে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা নং-৩১/২০২৬ [ধারা: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩] দায়ের করা হলে পুলিশি সরজমিন তদন্তে আসামীদের অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা গত ২৫/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বেলা অনুমান ০৩:০০ ঘটিকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাজেরা খাতুনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। বিবাদী জফুরা বেগমের হুকুমে প্রধান আসামী হাদিছ মিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কোপ মারলে হাজেরা খাতুনের ডান চোখের নিচে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। অন্য আসামীরা লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে মমতা খাতুনের স্বামী মোঃ নবী হোসেন ও ভাই মোঃ আলী নূর এগিয়ে এলে তাদের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজেরা খাতুনকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উক্ত ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় নিয়মিত মামলা (নং- ২২, তারিখ: ২৬/০৩/২০২৬ইং, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ দ্য পেনাল কোড) রুজু করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশি তদন্তে ভূমি অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এবং থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও আসামীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে ভুক্তভোগীদের খুন করে লাশ গুম করার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত হাদিছ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়ার পরও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এতে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চারদফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, বিশ্বম্ভরপুর থানার মামলা নং- ২২ (২৬/০৩/২০২৬)-এর এজাহারনামীয় আসামী হাদিছ মিয়া, জফুরা বেগম, মোজাম্মিল, সাব্বির ও জোনাকী আক্তারসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার সুনিশ্চিত করা। সি.আর মামলা নং- ৭৩/২০২৩-এর একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩-এর অধীন বিচারাধীন পিটিশন মামলা নং- ৩১/২০২৬ অনুযায়ী হাজেরা খাতুনের খরিদা ০.১৪ একর জমিতে শান্তিপূর্ন দখল ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: