নেপালে বন্যায় মৃত বেড়ে ১৩৪৪, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৪৯০০
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ১১তম দিনেও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের পর বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৮৯৮ জন।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৮৪৩টি মরদেহের মধ্যে ৭৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৮৫টি শিশু। এর বাইরে বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৫০১টি বিচ্ছিন্ন মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৩০টি নির্ধারিত নিয়ম মেনে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে। দাফনের আগে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শ্রমিক ও কর্মীদের সন্ধানে নেপালের উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত অনেক শ্রমিক ও কর্মীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের একটি অংশ টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের হিসাবে, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন টানেলের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার চিলিমে টানেলে উদ্ধার অভিযান আরো কার্যকর করতে কাজ করছে ভারতের বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল। ভারী যন্ত্রপাতি টানেলের কাছে পৌঁছানোর জন্য সেখানে অস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে বলে শনিবার জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা পানি সরাতে টানেলের ভেতরে আরো গভীর পর্যন্ত খনন চালায় ভারতীয় দলটি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানান, ভারতীয় টানেল উদ্ধারকারী দল নেপাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শুক্রবার তারা চিলিমে টানেলের গভীরে খনন করে পানি অপসারণ করেছে। ভারী সরঞ্জাম টানেলের কাছে নেওয়ার জন্য অস্থায়ী সড়ক তৈরির কাজও চলছে। পাশাপাশি দলের চিকিৎসকেরা স্থানীয়দের জন্য একটি স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করেছেন।
রাসুয়া জেলার শ্যাব্রুবেশি গ্রামের কাছেই চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবস্থান। গত ২৬ আগস্টের বন্যায় প্রকল্প-সংলগ্ন এলাকাটিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
নেপালে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস থেকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বিশেষ করে ভোতে কোশি নদী বন্যার পানির বড় প্রবাহ বহন করে। হিমালয় সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণমুখী এই নদীর তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
বন্যার পর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলে ধরে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সড়ক, সেতু, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: