নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মালিকের অপেক্ষায় বিশ্বস্ত কুকুর

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মালিকের অপেক্ষায় বিশ্বস্ত কুকুর

প্রথম ডেস্ক

০২/০৯/২০২৬ ১২:১৯:০৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। চারদিকে কাদা, পলি আর ধ্বংসাবশেষ। উদ্ধারকাজে ব্যস্ত ভারী যন্ত্রপাতির বিকট শব্দও থামছে না। এর মধ্যেই নিজের পুরোনো ঠিকানায় নীরবে বসে আছে একটি কালো-সাদা কুকুর। তার গলায় থাকা বেল্টটিও এখনো অক্ষত।

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী বাজারে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যার পর এমন দৃশ্যই নজর কেড়েছে উদ্ধারকর্মীদের। বানের স্রোতে সারিবদ্ধ চারটি বাড়ি ভেসে যাওয়ার পর এলাকাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নিজের পরিচিত উঠোনের জায়গাটি আঁকড়ে পড়ে আছে কুকুরটি।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক বিক্রম থাপা জানান, প্রথম দিকে কুকুরটিকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন তারা। বিস্কুট খাওয়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন নামে ডেকে তাকে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই সাড়া দেয়নি প্রাণীটি।

কুকুরটির গলার বেল্ট এখনো ঠিকঠাক রয়েছে। তবে তার মালিক কে ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারটি বাড়ির কোনটিতে কুকুরটি থাকত, সেটিও জানা যায়নি। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সে নড়ছে না—এটাই উদ্ধারকর্মীদের কাছে সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়।

ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজে থাকা সুনীল তামাং জানান, কুকুরটির কয়েক মিটার দূরেই চলছে জেসিবি ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির কাজ। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দেও প্রাণীটি আতঙ্কিত হচ্ছে না। মাঝে মাঝে মানুষের হাঁটার শব্দ কিংবা কোনো যানবাহনের আওয়াজ শুনে মাথা তুলে তাকাচ্ছে। পরে পরিচিত কাউকে না পেয়ে আবার আগের জায়গাতেই শুয়ে পড়ছে।

উদ্ধারকর্মীরা বুঝতে পারছেন, কুকুরটি সম্ভবত তার পরিচিত মানুষদের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জোর করে তাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন পশুকল্যাণকর্মীরা।

প্রাণী উদ্ধারকর্মী রীতা গুরুং জানিয়েছেন, এখন কুকুরটির কাছেই নিয়মিত খাবার ও পানি রেখে যাওয়া হচ্ছে। আশপাশ কিছুটা নিরিবিলি হলে সে সেখান থেকে খাবার খাচ্ছে। তবে মানুষের ভিড় বা উদ্ধারকাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জায়গা ছেড়ে বের হচ্ছে না।

বন্যার সেই রাতের কথা মনে করে স্থানীয় বাসিন্দা মায়া অধিকারী জানান, পানি বাড়তে শুরু করলে এলাকার অনেক কুকুর নিরাপদ উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এই কুকুরটি তার পরিচিত বাড়ি ও উঠোন ছেড়ে যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী দিনেশ বাসয়ালের চোখেও ঘটনাটি কষ্টের। তিনি বলেন, বন্যায় মানুষ যেমন স্বজন ও ঘরবাড়ি হারিয়েছে, এই প্রাণীটিও হারিয়েছে তার পরিচিত মানুষ ও আশ্রয়। পার্থক্য শুধু এটুকু, কী ঘটেছে, তা বোঝার ক্ষমতা তার নেই। পরিচিত মানুষগুলো একদিন ফিরে আসবে এই আশায় হয়তো ধ্বংসস্তূপের মাঝেও সে অপেক্ষা করে যাচ্ছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad