বড়লেখায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

বড়লেখায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

২৩/০৮/২০২৬ ২০:৫২:০৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নি নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে ওই গৃহবধূ তাঁর বাবাকে এসএমএসের মাধ্যমে মারধরের কথা জানিয়ে প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

নিহত মরিয়ম আক্তার মুন্নি উপজেলার বিওসি কেছরীগুল গ্রামের হাজী মকবুল আলীর মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে একই উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে মামুনুর রশিদ লাবলুর সঙ্গে সামাজিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা হাজী মকবুল আলী সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি বিচার-বৈঠকেই তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন দোষী সাব্যস্ত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মরিয়মের মাধ্যমে তাঁর স্বামী ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে ওই টাকা কিস্তি হিসেবে পিত্রালয় থেকে এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে পরিবারের অভিযোগ।

হাজী মকবুল আলীর দাবি, ঘটনার দিন রাত ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে তাঁর মেয়ে এসএমএস করে জানায়, তাঁকে বেদম মারধর করা হচ্ছে এবং যেকোনো সময় তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। এসএমএস পাওয়ার প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর শ্বশুরবাড়ির গ্রামের এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে জানান, তাঁর মেয়ে নাকি ফাঁস লাগিয়েছে।

পরে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান। তাঁর দাবি, বাথরুমের দরজাও খোলা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর মরিয়মকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ননদ নিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বাবা। তাঁর আশঙ্কা, মোবাইল ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলে ঘটনার রহস্য আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।

হাজী মকবুল আলী বলেন, তাঁর কাছে মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

হিফজুর রহমান / আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad