হামলায় আহত ২
দিরাইয়ে সংখ্যালঘুদের শতবছরের গোচারণ ভূমি দখলের অপচেষ্টা
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শতবছরের ব্যবহৃত প্রায় ২০ একর সরকারি গোচারণ ভূমি দখলের অপচেষ্টা ও তাতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় দুই অধিবাসীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জমি রক্ষা ও হামলার বিচারে ইতোমধ্যে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামসংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার প্রায় ২০ একর জমি শতবছর ধরে স্থানীয়রা গবাদিপশুর চারণভূমি, খেলাধুলা ও কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছেন। বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত এই জমিতে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বালু বোঝাই স্টিলের নৌকা ও ড্রেজিং সরঞ্জাম নিয়ে একদল দখলদার হাজির হয়। কিত্তাগাঁও গ্রামের নির্মল তালুকদারসহ স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা ফিরে যায়, তবে প্রস্থানকালে গ্রামবাসীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
এরই জেরে পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার (৫৯) ও মনোরঞ্জন তালুকদারকে (৫০) একা পেয়ে রামদা, লোহার রড ও লাঠিঘোঁটা নিয়ে দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এতে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নির্মল তালুকদার বাদী হয়ে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া রবিবার (২৩ আগস্ট) অবৈধ দখল বন্ধ ও সুরক্ষার দাবি জানিয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়।
কিত্তাগাঁওয়ের বাসিন্দা পলাশ তালুকদার বলেন, "বাপদাদার আমল থেকে জমিটি গোচারণ ভূমি ও খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ রফিনগর গ্রামের একটি পক্ষ ৩ কিলোমিটার দূর থেকে এসে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা হলো। আমরা সংখ্যালঘু মানুষ, বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।"
তবে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিনিধি নুর হামিদ দাবি করেন, "জমিটি সরকারি বা খাস নয়। ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার পরিবারের কাছ থেকে সমস্ত নিয়ম ও কাগজপত্র মেনেই আমরা এটি ক্রয় করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সার্বিক বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার প্রথম সিলেটকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সার্বিক বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: