খোয়াই নদীর ভাঙ্গনে প্লাবিত ১০ গ্রাম
ভারতের পাহাড়ি ঢল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতে ফের ভাঙন
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, ভারতের ত্রিপুরাস্থ চাকমাঘাট ব্যারেজের কপাট খুলে দেওয়া এবং স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে পুনরায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে ফের বাঁধ ধসে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী মানুষ। রোববার ভোর থেকে লোকালয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকতে শুরু করায় বিকেল নাগাদ কালীগঞ্জসহ আশপাশের ১০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এই আকস্মিক প্লাবনে শত শত একর জমির আমন ধান ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ কোমরসম পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, আর সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে দেখা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে প্রমত্তা খোয়াই নদী দিয়ে প্রকাণ্ড পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। রোববার দুপুরে চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে গত ৯ জুলাই রাতে ভাঙা কালীগঞ্জ এলাকার নড়বড়ে বাঁধটি আবারও ধসে পড়ে। চোখের পলকে তীব্র স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে ঘরবাড়ির মালামাল ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, জুলাইয়ের ভয়াবহ ভাঙনের পর বাঁধের স্থায়ী সংস্কার না করে অত্যন্ত ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজ করা হয়েছিল। সুঘর এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও কালীগঞ্জের মখলিছ মিয়ার মতে, পাউবোর অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই হাজার হাজার মানুষকে আজ আবার এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রথম দফার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকেরা যে রোপা আমন ও সবজি নতুন করে চাষ করেছিলেন, তা আবার তলিয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা।
এদিকে বাঁধ ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, "ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণে চাকমাঘাট ব্যারেজ খুলে দেওয়ায় নদীতে হু-হু করে পানি বাড়ে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভাঙনকবলিত অংশের মেরামতের কাজ কিছুটা পিছিয়েছিল। তবে ভারতে ব্যারেজ বন্ধ করায় বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই ভাঙন অংশটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
ফয়সল চৌধুরী / ডিডি
মন্তব্য করুন: