মৌলভীবাজার মডেল মসজিদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক সমাধানে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি
মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে মিলাদ ও কিয়াম পালনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও উত্তেজনা নিরসনে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ মুসল্লিরা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মডেল মসজিদের সরকার মনোনীত ইমাম মাওলানা শাহ আলম মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেন। এর জের ধরে পরবর্তী দিন, ২২ আগস্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে একদল লোক একত্রিত হয়ে ইমামের অপসারণ দাবি করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
উক্ত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন একটি পক্ষ ইমামের ওই কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি তুলছে, অন্যদিকে সাধারণ মুসল্লিদের একটি বৃহৎ অংশ বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিমত, মডেল মসজিদ কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীবিশেষের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি জাতীয় সম্পদ। যেহেতু এখানে সব মত ও ভাবধারার সাধারণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন, তাই সব ধরনের ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রেখে সরকারি নীতিমালার আলোকে মসজিদ পরিচালনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, মডেল মসজিদের সার্বিক পরিচালনা ও তদারকির মূল দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও টেকসই সমাধান দেবেন বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। ধর্মীয় মতপার্থক্যকে ঘিরে যেন মসজিদে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মুসল্লিরা।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: