সাতছড়িতে বন্য প্রাণীর পানির সংকট: জলাধার খননের আশ্বাস চিফ প্রসিকিউটরের

সাতছড়িতে বন্য প্রাণীর পানির সংকট: জলাধার খননের আশ্বাস চিফ প্রসিকিউটরের

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৬/০৯/২০২৬ ১৩:৩৫:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জ: সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ভরাট হয়ে গেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরের প্রধান জলাধারগুলো। এতে বনের বন্য প্রাণীদের জন্য সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্যানের পুকুরগুলো পুনঃখননের তাগিদ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদা) অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, বন বিভাগ রাজি থাকলে বন্য প্রাণীদের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পুকুর খনন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিতে প্রস্তুত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে সঙ্গে নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে যান চিফ প্রসিকিউটর। পরিদর্শনের সময় সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেনসহ বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে জানা যায়, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর ভূমিধসের কারণে উদ্যানের প্রধান জলাধার ‘বড় পুকুর’সহ একাধিক জলাশয় পলি ও বালুতে পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয় বন বিভাগ ও পরিবেশবাদীদের তথ্যানুযায়ী, উদ্যানের প্রধান তিনটি জলাধারের মধ্যে দুটিই বালুচাপা পড়ে বিনষ্ট হয়েছে। এর ফলে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বনের জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়া এবং পানির তীব্র সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরে পানির উৎস শুকিয়ে গেলে উল্লুক, চশমাধারী হনুমান, হরিণ ও মেছোবাঘের মতো বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী খাবারের পাশাপাশি পানির সন্ধানে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়বে। এতে প্রাণীগুলোর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এই সংকট কাটাতে চিফ প্রসিকিউটর বালুচাপা পড়া পুকুরগুলো দ্রুত পুনঃখনন এবং প্রয়োজনে গভীর নলকূপ স্থাপনের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢলের বালু ঠেকাতে গাইড ওয়াল বা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ওপর জোর দেন। শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সংস্কারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad