সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ওয়েবসাইটে ‘ডিজিটাল ভেলকি’
সেবাপ্রত্যাশীকে চড় মারার ‘হাতযশ’ দেখানোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারি ওয়েবসাইটে ‘ডিজিটাল ভেলকি’ দেখিয়ে তুমুল আলোচনায় সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা গেছে এক অদ্ভুত অলৌকিক কাণ্ড—আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, গাড়িচালক এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সবার নাকি একই মোবাইল নম্বর!
অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (ec.sylhetdiv.gov.bd) চোখ বুলালে মনে হবে, অফিসে পদ পদবি আলাদা হলেও সবারে মিলিয়ে দিয়েছে ‘একই সিমের বন্ধন’। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মহসিন আহমেদ ও মো. হাসান আহমদ, গাড়িচালক মিলাত হোসেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী সায়েম আহমদ—সবার যোগাযোগের নম্বরের জায়গায় সগর্বে শোভা পাচ্ছে একটিই মাত্র মোবাইল নম্বর। অর্থাৎ, বড় সাহেবকে ফোন মেরে ভুল করে ঝাড়ুদার সাহেবের কাছে বা চালকের কাছে কল চলে যাওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার!
শুধু এই এক নম্বরের ‘জাদুকরী খেলা’তেই ক্ষান্ত হননি তারা। তালিকার বেশির ভাগ কর্মীর অফিস ও বাসার টেলিফোন নম্বরের ঘর একবারে ফাঁকা, যেন ওসব থাকলে সৌন্দর্য নষ্ট হতো। আবার ই-মেইলের ঘরেও রয়েছে খামখেয়ালিপনার চরম নমুনা। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মহসিন আহমেদের মেইল হিসেবে বসানো হয়েছে অফিশিয়াল ডোমেইন (reosylhet@ecs.gov.bd), আর অন্য সহকর্মীর বেলায় ঠাঁই পেয়েছে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তথ্যের নিচে হাসিমুখে ‘ভিজিট কার্ড ডাউনলোড করুন’ এবং ‘দেখুন’ বাটনও দিয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি অতীব সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের তথ্য পাওয়ার নামে সেবা গ্রহীতারা তো এখন ডিজিটাল গোলকধাঁধায় হাবুডুবু খাবেন। জাঁদরেল নির্বাচন কর্মকর্তার যোগাযোগের নম্বরের জায়গায় ড্রাইভার বা ঝাড়ুদারের নম্বর বসিয়ে রেখে সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনার কী মহৎ ‘মান’ বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে হাসাহাসি করছেন সচেতন নাগরিকরা।
সম্প্রতি অফিসে আসা সেবাপ্রত্যাশীকে চড় মেরে ‘অতিথি পরায়ণতার’ যে মেজাজ তারা দেখিয়েছিলেন, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় থামেনি। তার ওপর ওয়েবসাইটজুড়ে এমন শিশুতোষ গরমিল তাদের অদক্ষতা ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কফিনে নতুন পেরেক ঠুকে দিল।
জরুরি প্রয়োজনে মানুষ কাকে ফোন করবে আর কার দেখা পাবে—এই মৌলিক তথ্য হালনাগাদ করার ন্যূনতম তাগিদও যে তাদের নেই, তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, কাজ হোক বা না হোক, অন্তত নিজেদের সঠিক ফোন নম্বরটা দেওয়ার মতো বুদ্ধিটুকু তো থাকা উচিত ছিল!
যথারীতি এই ‘অলৌকিক মহাজোট নম্বর’-এর রহস্য উদ্ধার করতে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনের ফোনে ট্রাই করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। হয়তো মহা-গুরুত্বপূর্ণ সেই একই নম্বরে সবাই মিলে একসাথে কথা বলছেন!
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: