সুনামগঞ্জে বৃক্ষমেলা শুরু: গুরুত্ব পাচ্ছে চারা রোপণ ও গাছ বাঁচিয়ে রাখার বার্তা
হাওর-বাঁওড় আর জলাভূমিতে ঘেরা জেলা সুনামগঞ্জ। বর্ষায় পানি আর শুষ্ক মৌসুমে সবুজের সম্ভাবনা নিয়ে জেগে ওঠে এর প্রকৃতি। অনন্য এই ভূপ্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে রোপণ করা গাছ টিকিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে শুরু হয়েছে জেলা বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বালুর মাঠে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে শহরজুড়ে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। সরকারি কর্মকর্তা, বন বিভাগের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর ফিতা কেটে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এবং সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমানসহ প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চারা রোপণ করা হলেও কতটি গাছ টিকে থাকছে—তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। শুধু নির্দিষ্ট মৌসুমে চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেটিকে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলা আসল সাফল্য। বসতবাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার দু'পাশ, পতিত জমি ও খাল-নদীর পাড়ে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
সুনামগঞ্জের হাওর ও জলাভূমির বিশেষ প্রতিবেশব্যবস্থা (ইকোসিস্টেম) বিবেচনা করে জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মেলার মাধ্যমে কেবল চারা কেনাবেচা নয়, বরং একটি চারাকে পূর্ণাঙ্গ ছায়াদানকারী বৃক্ষে পরিণত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: