আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

প্রথম ডেস্ক

০৮/০৯/২০২৬ ১২:১২:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। তবে স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে নিরক্ষরতা দূরীকরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। গত তিন বছর ধরে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে স্থির রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এখনো দেশের ২১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। সংখ্যায় যা প্রায় চার কোটি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনো একটি বড় অংশ শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশে। এরপর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—টানা তিন বছর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে স্থির রয়েছে।

অর্থাৎ পাঁচ বছরে দেশের সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত জনবল রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ব্যুরোর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের সাক্ষরতার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। এতে অংশ নেয় মাত্র ৬ হাজার ৮০৫ জন।

এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত প্রাক-বৃত্তিমূলক বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ছিল ৪ হাজার ১৯৮ জন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে পর্যাপ্ত প্রকল্প ও কার্যক্রম না থাকায় মাঠপর্যায়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ কার্যত নিষ্ক্রিয় সময় পার করছেন।

তবে সাক্ষরতার হার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোর এবং নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতে নতুন কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ‘অলটারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি (এএলও)’ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ৬৪টি নির্বাচিত উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘স্কিল ফোকাসড লিটারেসি ফর আউট অব স্কুল অ্যাডোলেসেন্ট (স্কিলফো)’ কার্যক্রম আরও ১৬ জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তিন বছরে এক লাখ কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বিশেষ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে ৫০ জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নিরক্ষর প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে ‘অ্যাডাল্ট লিটারেসি অ্যান্ড ফাংশনাল অ্যাবিলিটি (আলফা) এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পাইলট কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় ৪০ জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এবং ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষরতার হার প্রত্যাশিত গতিতে না বাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যমান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি নয়, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে বছরজুড়ে ধারাবাহিক শিক্ষা কার্যক্রম, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে সাক্ষরতার হার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।


রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad