সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে ঈদ, সেনা-পুলিশের পাহারায় জামাত

মুচলেকা ভঙ্গ করে

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে ঈদ, সেনা-পুলিশের পাহারায় জামাত

প্রথম ডেস্ক

০৬/০৬/২০২৫ ১২:০৭:০৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার জামাত আদায় করেছেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী ও তাঁর অনুসারীরা। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা বাসভবনে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। কোর্ট রোড থেকে শাবিস্তা বাসভবন পর্যন্ত ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা—যা স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়ে।


জামাতে অর্ধ শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ অংশ নেন। অনেকে এসেছেন পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়। জামাতে ইমামতি করেন ‘পীর সাহেব উজান্ডি’ খ্যাত আবদুল মাওফিক চৌধুরী।


তিনি বলেন, যথা নিয়মে ঈদুল আজহা পালন করছি। আমরা “সৌদির সঙ্গে রোজা শুরু করেছিলাম, ঈদও করছি মিল রেখে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের একদিনে ঈদ পালনের আহ্বান জানাই।” তবে এ আয়োজন ঘিরে রয়েছে বিতর্কের ছায়া।


গত রমজানে ঈদুল ফিতরের পর মুসল্লিদের টুপি ও জুব্বাকে “ইহুদি পোশাক” বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে সর্বদলীয় ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনের চাপের কারণে তিনি মুচলেকা দেন। তাতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে সরকারি নির্ধারিত তারিখেই ঈদ পালন করবেন।


কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় সেই মুচলেকার শর্ত ভেঙে সৌদির তারিখেই ঈদ পালন করলেন তিনি। এ বিষয়ে মাওফিক চৌধুরী বলেন, “সময় ও পরিস্থিতির কারণে সে সময় মুচলেকা দিয়েছিলাম। এখন পরিবেশ অনুকূলে। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতেও এভাবেই ঈদ করবো।”


তিনি জানান, কিছু মুসল্লি নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় জামাতে আসতে পারেননি। তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি জামাত সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানান।


প্রশ্ন উঠছে: একই দেশের ভেতর দুই তারিখে ঈদ—এটা কি ব্যক্তিস্বাধীনতা, না কি শৃঙ্খলা ভঙ্গ? মৌলভীবাজারের এই ঘটনাই নতুন করে সেই বিতর্ক উসকে দিল।


নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন: