জুড়ী-বড়লেখার নারীদের কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন নিয়ে সংসদে এমপি মিঠুর প্রশ্ন

জুড়ী-বড়লেখার নারীদের কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন নিয়ে সংসদে এমপি মিঠুর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

০৯/০৯/২০২৬ ১৯:৩৭:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানতে মহান জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

জাতীয় সংসদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে তিনি জানতে চান, তাঁর নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজার-১-এর জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক কী কী কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী।

একই সঙ্গে তিনি ওই এলাকার শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র বা শিশু কল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না এবং স্থানীয় নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জুড়ী ও বড়লেখায় নতুন নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে কি না—তা জানতে চান।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো: জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় মোট ১৬টি ট্রেডের মধ্যে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রতি জেলায় নির্বাচিত ৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। প্রতি ট্রেডে ২০ জন করে তিন মাস মেয়াদে প্রতি অর্থবছরে চার ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ হিসাবে প্রতি অর্থবছরে ৬৪ জেলায় মোট ২৫ হাজার ৬০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি কর্মদিবসে ১০০ টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়।

এছাড়া ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় অসহায় নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৮৯ লাখ টাকা।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদে উপজেলার চাহিদার ভিত্তিতে দুইটি ট্রেডে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৩২০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে এসে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

সংসদে এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর এ প্রশ্নের মধ্য দিয়ে জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

হিফজুর রহমান / নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad