বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেড় লাখ টাকা
১৩ বছর পর শাহীনের কবল থেকে দখলমুক্ত হবিগঞ্জে সরকারি কোয়ার্টার
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কোয়ার্টার থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর সরে গেছেন শাহীনুর কামাল শাহীন। সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টার দখলে রাখার অভিযোগ ওঠা শাহীন গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালামাল নিয়ে চলে যান। বুধবার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মকর্তা সাদ বিন জাহাঙ্গীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কোনো পদে নিয়োগ না থাকা সত্ত্বেও শাহীন দীর্ঘদিন দুটি সরকারি কোয়ার্টার দখলে রেখেছিলেন। এর একটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন এবং অন্যটি গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি ইউএনও কার্যালয়ের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
তবে দীর্ঘ সময় কোয়ার্টারে থাকলেও ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় দেড় লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধ না করেই শাহীন চলে গেছেন বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। ফলে এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিল কীভাবে আদায় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বকেয়া বিল জমে যাওয়ায় গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে ওই কোয়ার্টারে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়, যাতে নতুন করে আর বকেয়া না হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি দেখছি। কোয়ার্টার ছাড়ার আগে শাহীনকে অন্তত গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।” কিন্তু পিডিবি জানিয়েছে, শাহীন কোনো বিলই পরিশোধ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু কোয়ার্টার দখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি সম্পদ আত্মসাত, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং নানা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাহীনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্বপন রবি দাশ/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: