ব্রিটিশ এমপি আমান্দা মার্টিনের সাথে ‘হাওর রক্ষা আন্দোলন’ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পোর্টসমাউথ নর্থ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমান্দা মার্টিনের (Amanda Martin) সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কর্মরত সামাজিক সংগঠন ‘হাওর রক্ষা আন্দোলন’ মৌলভীবাজারের নেতারা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সেন্ট নিকোলাস চার্চে পূর্বনির্ধারিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজারের সদস্যসচিব এম খছরু চৌধুরী। তাঁর সাথে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউকে বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং লেবার পার্টির বিশিষ্ট কর্মী সুমেল চৌধুরী ও খায়রুল আনাম খাঁন।
দীর্ঘ ৩০ মিনিটের এই বৈঠকে সদস্যসচিব এম খছরু চৌধুরী ব্রিটিশ এমপিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক জলাভূমি—হাওরাঞ্চল এবং সংলগ্ন নদ-নদীর বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা, প্রাক-মৌসুম বন্যা, পলি ভরাট, অবৈধ দখল ও ভূমিখেকোদের হাত থেকে জলাভূমি সুরক্ষায় তাঁদের পরিচালিত নানা পরিবেশবাদী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ জানান, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ভেজা বা আর্দ্রভূমি (Wetland) কেবল স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও মৎস্য সম্পদের মূল উৎসই নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় এবং পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও অপরিকল্পিত দখলের কারণে আজ এই স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র চরম হুমকির মুখে।
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ ও ধৈর্যের সাথে শোনেন এমপি আমান্দা মার্টিন। হাওর রক্ষা আন্দোলনের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে আমাদের দেশেও একই ধরনের পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছিল। এসব সমস্যা সমাধান এবং ভূমিগ্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত জলাভূমি ও নদী রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং আপনাদের মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আজ একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।”
একই সাথে ব্রিটিশ এমপি আমান্দা মার্টিন আশ্বাস প্রদান করে বলেন, বাংলাদেশের হাওর ও জলবায়ু সুরক্ষায় পরিচালিত এই মহৎ কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (Concerned Authority) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবেন ও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব তুলে ধরবেন।
বৈঠক শেষে হাওর রক্ষায় বৈশ্বিক পর্যায়ে জনমত সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: