সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটিকে লিগ্যাল নোটিশ

সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটিকে লিগ্যাল নোটিশ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৯/২০২৬ ০০:১৬:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

চুক্তি ভঙ্গ, পূর্বের মেলার ক্ষতিপূরণ অনাদায় এবং নতুন মেলা আয়োজনে উপেক্ষার অভিযোগ এনে ‘সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (SWCCI)-এর সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুসাইন আহমেদ শিপন নোটিশ প্রদানকারী দুই সংগঠনের পক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। আইনি নোটিশ পাঠানো সংগঠন দুটি হলো—‘বাংলাদেশ বেনারসি মসলিন ও জামদানি সোসাইটি’ (সভাপতি এম. এ. মঈন খান বাবলু) এবং ‘মণিপুরী তাঁত শিল্প ও জামদানি বেনারসি কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ (সভাপতি মো. আব্দুল গফফার)।

নোটিশে জানানো হয়, ২০২৩ সালে শাহজালাল উপশহরে ‘এসএমই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৩’ আয়োজনের জন্য সিলেট উইমেন চেম্বারের সাথে নোটিশদাতা সংগঠন দুটির একটি লিখিত চুক্তি (তারিখ: ২৫ মার্চ ২০২৩) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা সংগঠন দুটি তাদের নিজস্ব খরচে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন সংগ্রহ করে। কিন্তু মেলার স্থান প্রস্তুত করতে গেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বালু ভরাটের কাজের কারণে বাধা সৃষ্টি হয় এবং স্থান হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

নোটিশে দাবি করা হয়, উইমেন চেম্বারের ব্যর্থতার কারণে মেলাটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, যার ফলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান দুটির প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। সেসময় চেম্বারের তৎকালীন সভাপতি ও কর্তৃপক্ষ ক্ষতি মেনে নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে উইমেন চেম্বার কর্তৃক আয়োজিত যেকোনো মেলায় এই সংস্থাদ্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং জামানত হিসেবে নেওয়া ৬টি চেকও ফেরত দেওয়া হয়নি। 

অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি উইমেন চেম্বার আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৮ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলা-২০২৪/২০২৬’ আয়োজনের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমোদন লাভ করে। তবে এই প্রক্রিয়ায় পূর্বের চুক্তি ও আশ্বাসের তোয়াক্কা না করে নোটিশদাতা সংগঠন দুটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে এবং তাদের গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের লিখিত আবেদনও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  


লিগ্যাল নোটিশে নোটিশ পাওয়ার ৩ (তিন) দিনের মধ্যে উইমেন চেম্বারকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে: ১. গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আবেদনের যৌক্তিক ও লিখিত নিষ্পত্তি করা। ২. 'সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলা-২০২৬'-এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নোটিশদাতাদের অর্পণ করা। ৩. ৩য় পার্টি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত থাকা। ৪. ২০২৩ সালের মেলার বকেয়া ক্ষতিপূরণ (৩০-৩২ লাখ টাকা) পরিশোধের লিখিত রূপরেখা প্রদান এবং জামানতের ৬টি চেক নগদায়ন না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে সংক্ষুব্ধ পক্ষদ্বয় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করবে এবং মেলা আয়োজনের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চাইবে।   অনুলিপি ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেট জেলা প্রশাসক, সিলেট এসএমপি পুলিশ কমিশনার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

নীরব চাকলাদার/ ডিডি / প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad