মৌলভীবাজারে কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র পেলেন ৬৭ শিক্ষক

মৌলভীবাজারে কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র পেলেন ৬৭ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৮/০৯/২০২৬ ১৮:০৯:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দীর্ঘ উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা আর চোখের জলের পর অবশেষে ফুটলো স্বস্তির হাসি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যাওয়া মৌলভীবাজারের ৬৭ জন প্রার্থী অবশেষে হাতে পেয়েছেন তাঁদের বহু কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নিয়োগ নিশ্চিতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। কান্না জমা চোখের কোণে ফুটে ওঠে আশার আলো।

জানা যায়, প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৩৫৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় হঠাৎ করেই ৮৫ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। এতে চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছিলেন বাদ পড়া প্রার্থীরা।

অধিকার আদায় ও ন্যায়বিচারের দাবিতে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। সেসময় সেখানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রার্থীরা। তাঁদের আকুল আকুতি শুনে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন এবং জেলা প্রশাসককে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক সমাধানের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জটিলতায় থাকা প্রার্থীদের নথিপত্র পুনঃযাচাই করে দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হয়। ত্রুটি সংশোধন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে সোমবার যোগ্য ৬৭ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করা হয়।

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে এক আবেগাপ্লুত শিক্ষিকা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘গত কয়েকটা দিন মনে হচ্ছিল আমাদের সব স্বপ্ন একনিমেষে শেষ হয়ে গেছে। আজ মনে হচ্ছে নতুন একটা জীবন পেলাম। মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, কাগজপত্রের সামান্য ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাই করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরিতে অনিচ্ছা এবং কিছু জটিলতা থাকায় দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ জনের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। নিয়োগপত্রগুলো ডাকযোগে প্রার্থীদের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে এবং শীঘ্রই তাঁরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান। আটকে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুসংবাদ নিষ্পত্তিতে মৌলভীবাজারে দীর্ঘ আন্দোলনের অবসান ঘটলো; আর ৬৭টি পরিবার ফিরে পেল তাদের হারিয়ে যেতে বসা স্বপ্ন।

হিফজুর রহমান / নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad