নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেয়েই শটগান হাতে ছবি পোষ্ট

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেয়েই শটগান হাতে ছবি পোষ্ট

প্রথম ডেস্ক

২৯/১০/২০২৬ ১৭:০৯:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান থাকলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মূসার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও কুয়াকাটায় অবস্থান করে মদ্যপান করতে দেখা গেছে।

কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকেই মিজানুর রহমান মূসার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি, কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা চলছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকে মিজানুর রহমান মূসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউনিয়নে সংগঠনের কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিজানুর রহমান মূসার সঙ্গে অন্য এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতীমন্ত্রী মুহিব্বুর রহমান মুহিব এবং কেন্দ্রীয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইনানের নাম উল্লেখ করে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে মিজানুর রহমান মূসার বিরুদ্ধে কলাপাড়া ও কুয়াকাটা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁকে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র হাতে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেলে মদ্যপান এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিজানুর রহমান মূসা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুহিব্বুর রহমান মুহিব এলাকায় ফিরে আসবেন বলে প্রচার করছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কিছুদিন পূর্বে কুয়াকাটায় একটি হোটেলে অবস্থান করে মদ্যপান করেছেন যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মূসার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বর্তমানে সচল নেই বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। তাঁদের মতে, অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা জনমনে ভীতি সৃষ্টির মতো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad