চিকিৎসকের ছাড়পত্র না থাকায় সিলেটে আটকে গেল অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডনযাত্রা

চিকিৎসকের ছাড়পত্র না থাকায় সিলেটে আটকে গেল অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডনযাত্রা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩১/১০/২০২৬ ১৯:৩৩:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আন্তর্জাতিক আকাশপথের কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির বেড়াজালে পড়ে শেষ মুহূর্তে বাতিল হলো এক প্রবাসী পরিবারের লন্ডনযাত্রা। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ২৫ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী যাত্রী প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট) দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঝুঁকি এড়াতে বিমান কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের পর পরিবারের অন্য তিন সদস্যও স্বেচ্ছায় ফ্লাইট থেকে সরে দাঁড়ান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নির্ধারিত বিমানটির (ফ্লাইট নম্বর: বিজি-২০১) মাধ্যমে চার সদস্যের ওই পরিবারের লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল। যথারীতি চেক-ইন এবং ইমিগ্রেশনের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা তারা সম্পন্নও করেছিলেন।

তবে বিপত্তি বাধে বোর্ডিংয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, যখন পাসপোর্ট চেকিং পয়েন্টে (পিসিইউ) দায়িত্বরত ক্রুরা নিয়মানুযায়ী যাত্রীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তখন ওই পরিবারের নারী সদস্য নিজেই জানান যে তিনি ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমেদ পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নীতিমালা এবং বিমানের নিজস্ব প্রবিধান অনুযায়ী—সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে বিমান ভ্রমণের জন্য চিকিৎসকের ফিটনেস সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক।

যদিও ওই নারীর গর্ভাবস্থা এখনো ২৬ সপ্তাহ পূর্ণ হতে এক সপ্তাহ বাকি ছিল, তবুও মাঝ আকাশে যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যগত জটিলতা বা জরুরি পরিস্থিতি এড়াতে ক্রুরা তার কাছে চিকিৎসকের লিখিত ছাড়পত্র দেখতে চান। কিন্তু যাত্রীর কাছে পর্যাপ্ত কোনো মেডিকেল কাগজপত্র না থাকায় বিমান কর্তৃপক্ষ আইন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে ফ্লাইটে ওঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বোর্ডিংয়ের অনুমতি না দেওয়ায় তার স্বামী ও পরিবারের অন্য তিন সদস্যও এক প্রকার সংহতি প্রকাশ করে এবং ওই দিন আর বিমানে উঠবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তারা স্বেচ্ছায় ফ্লাইট থেকে ‘অফলোড’ (নিবন্ধন বাতিল করে নেমে যাওয়া) হন। এর ফলে পরিবারের চার সদস্যের কেউই পূর্বনির্ধারিত এই যাত্রায় অংশ নিতে পারেননি।

বিমান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া কোনো অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীকে বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যদি মাঝ আকাশে যাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন ও প্রোটোকল ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। সে কারণেই যাত্রীর নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা—উভয় দিক বিবেচনা করেই বিমান কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad