শীঘ্রই চেয়ারম্যান পাচ্ছে সিলেট জেলা মহিলা সংস্থা: আলোচনায় সাবিনা খান পপি

শীঘ্রই চেয়ারম্যান পাচ্ছে সিলেট জেলা মহিলা সংস্থা: আলোচনায় সাবিনা খান পপি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩১/১০/২০২৬ ২৩:২৯:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট জেলা মহিলা সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুব শিগগিরই এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংস্থার প্রশাসনিক ও কার্যক্রমে গতি ফেরাতে দ্রুত এই পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) ও সিলেট ওয়াসায় দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় এবার জেলা মহিলা সংস্থাতেও প্রজ্ঞাবান ও যোগ্য নেতৃত্ব বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এই দৌড়ে এবং সিলেটের রাজপথ ও রাজনৈতিক অলিন্দে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সাবিনা খান পপির নাম। তিনি শুধু একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রতিনিধিই নন, বরং যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাবেক সম্পাদক প্রয়াত কমর উদ্দিন চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা।

জাতীয়তাবাদী আদর্শের আন্দোলন-সংগ্রামে কমর উদ্দিন চৌধুরী সিলেট তথা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। বিদেশে অবস্থান করেও তিনি প্রবাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভীত মজবুত করতে এবং বিএনপির নীতি-আদর্শ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে আমৃত্যু অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জিয়া পরিবারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়া সত্ত্বেও জীবদ্দশায় তিনি কখনো কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বা পদের মোহ প্রদর্শন করেননি। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের জন্য তাঁর এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও নিবেদিত রাজনৈতিক ইতিহাসকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচনা করা হয়।

দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নীতি-নির্ধারক মহল মনে করছেন, কমর উদ্দিন চৌধুরীর সেই ঐতিহাসিক ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন এবং তাঁর পরিবারের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে সাবিনা খান পপিকে এ পদে বিবেচনা করা সময়ের সেরা দাবি।

সাবিনা খান পপি তাঁর বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও জনসেবার অনুপ্রেরণাকে ধারণ করে শুরু থেকেই তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তিনি ২০২২ সালে তিনি লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরোর ‘মাইল এন্ড ওয়ার্ড’ থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মেয়র লুৎফুর রহমানের অ্যাসপায়ার পার্টিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তবে দেশের মাটি ও দলের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে তিনি পরবর্তীতে সেই আন্তর্জাতিক কাউন্সিলর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক থাকলেও দলের সার্বিক সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে দলীয় নির্দেশ মেনে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তাঁর নাম ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার প্রতি এই একনিষ্ঠ আনুগত্য তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতারই পরিচয় দেয়।

নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জেলা মহিলা সংস্থাকে একটি আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সাবিনা খান পপি অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয় নারী নেত্রী ও বিশিষ্টজনেরা।

সাবিনা খান পপি জানান, “আমার মরহুম বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী সারা জীবন সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবা এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। বাবার আদর্শকে পাথেয় করেই আমি এ দেশের ও সিলেটের সুবিধাবঞ্চিত নারী সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই। মহিলা সংস্থার দায়িত্ব পেলে সিলেটের নারীদের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে তুলতে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।”

রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কেবল পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জনসেবায় রূপান্তর করার যে প্রত্যয় সাবিনা খান পপি দেখিয়েছেন, তাতে তাঁর নেতৃত্বে সিলেট জেলা মহিলা সংস্থা নারী ক্ষমতায়নে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সিলেটের সাধারণ মানুষের।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আফরোজা আব্বাসের ব্যক্তিগত সেল ফোনে কল দিলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad